সন্তানের জন্ম দিলেই এক ধাক্কায় অ্যাকাউন্টে ঢুকবে প্রায় আট লক্ষ টাকা! কোন দেশের সরকার এমন লোভনীয় অফার দিচ্ছে জানেন?

ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখন জন্মহার ও জনসংখ্যা নিয়ে নানা চর্চা চলছে, ঠিক তখনই জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে সিঙ্গাপুর সরকার। বিশ্বের অন্যতম দ্রুত ‘বয়স্ক’ দেশ হিসেবে পরিচিত সিঙ্গাপুরে তরুণ প্রজন্মের সংখ্যা কমতে থাকায় পরিবারগুলিকে আরও বেশি সন্তান নিতে উৎসাহ দিতে একগুচ্ছ আকর্ষণীয় ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি নতুন শিশুর জন্মে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা (৫৫,০০০ ডলার) আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং তাঁর বার্ষিক ন্যাশনাল ডে র‍্যালির ভাষণে সন্তানের জন্ম এবং পেরেন্টাল লিভ বা পিতামাতার ছুটি সংক্রান্ত নতুন নিয়মগুলির কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, যে সমস্ত নাগরিক পরিবার শুরু করতে বা বাড়াতে চান, তাঁদের পথ সহজ করতে সরকার সবরকমভাবে পাশে থাকবে। পাশাপাশি, ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য একাধিক নিখরচায় সুবিধার ঘোষণা করা হয়েছে এবং এই সময় পর্যন্ত শিশুদের ‘সরকারের সন্তান’ হিসেবে গণ্য করা হবে। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষ জনসংখ্যার এই দেশটিতে গত বছর প্রতি মহিলার সন্তান জন্ম দেওয়ার হার মাত্র ০.৮৭-এ নেমে এসেছে, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারের দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার খুব কাছাকাছি। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে জন্মহার কমপক্ষে ২.১ হওয়া প্রয়োজন, অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের বয়স ৬৫ বছরের বেশি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার পেরেন্টাল লিভের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচের বড় অংশ নিজে বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ভর্তুকিযুক্ত আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবারগুলির জন্য প্রথম বাড়ি কেনাও সহজ করে দিচ্ছে।

প্রধান হাইলাইটস:

  • বিরাট আর্থিক অনুদান: জন্মহার বাড়াতে সিঙ্গাপুর সরকার ঘোষণা করেছে যে, প্রতিটি নতুন শিশু জন্মালে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা (৫৫,০০০ ডলার) নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।

  • ১৭ বছর পর্যন্ত শিশুর দায়িত্ব: ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য একাধিক বিনামূল্যে সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাদের ‘সরকারের সন্তান’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

  • উদ্বেগজনক জন্মহার: সিঙ্গাপুরে জন্মহার কমে ০.৮৭-এ ঠেকেছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ জনবিন্যাস ও অর্থনৈতিক ভিত্তির ক্ষেত্রে এক বড় সংকট তৈরি করেছে।

  • সরকারি সহায়তা ও সুযোগ: বড় পরিবারের জন্য পেরেন্টাল লিভের সুবিধা বৃদ্ধি, কোম্পানির অতিরিক্ত খরচ বহন এবং ভর্তুকিযুক্ত আবাসন প্রকল্পের মতো একাধিক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *