জলকামান ও লাঠিচার্জ এড়িয়ে কীভাবে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙলেন পরীক্ষার্থীরা? পটনার রাজপথে আসল রহস্যটা কী?

সরকারি চাকরির পরীক্ষার অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের পর এবার চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে প্রতিবেশী রাজ্য বিহার। বিপিএসসি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার পটনার রাজপথ রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। বিক্ষোভরত পরীক্ষার্থীদের রুখতে পুলিশ জলকামান ও লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়, যার জেরে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
পরীক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার পটনার গান্ধি ময়দান থেকে একটি বিশাল মিছিল শুরু হয়ে ডাক বাংলো ক্রসিংয়ের দিকে এগোতে থাকে। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর বাসভবন ঘেরাও অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। হাতে তেরঙা পতাকা নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও লাঠিচার্জ শুরু করে। এই সংঘর্ষের জেরে পটনা পুলিশের এক ডিএসপির নাকে আঘাত লেগে জখম হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের দিক থেকেও ইট-পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ১৫টিরও বেশি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। ৭০তম বিপিএসসি পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া, ১৭৯৯ জন ইন্সপেক্টর নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতার দাবিতে মোট ১৩ দফা দাবিতে এই আন্দোলন চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের প্রতিটি মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ডাক বাংলো ক্রসিংয়ে সিআরপিএফ ও আরএএফ জওয়ানরাও টহল দিচ্ছেন। অন্যদিকে, এই পুরো ঘটনায় রাজ্য সরকারকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের আর্জি জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব।
প্রধান হাইলাইটস:
-
উত্তাল পটনা: সরকারি চাকরির পরীক্ষার নানা অনিয়ম ও বিপিএসসি পরীক্ষার বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার রাজপথে নেমে তীব্র বিক্ষোভ দেখান পরীক্ষার্থীরা।
-
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ও লাঠিচার্জ করা হয়।
-
১৩-দফা দাবি: ৭০তম বিপিএসসি পরীক্ষা পুনরায় নেওয়াসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে এই আন্দোলন চলছে।
-
ব্যাপক নিরাপত্তা: আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পটনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ডাক বাংলো ক্রসিংয়ে সিআরপিএফ ও আরএএফসহ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।