পড়ার টেবিলে বসলেই কি সব ভুলে যায় সন্তান? এই ৬টি খাবার আজই খাওয়ান, রাতারাতি বাড়বে স্মৃতিশক্তি!

পড়তে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বইয়ে মুখ গুঁজে বসে রয়েছে সন্তান। আপনি ভাবছেন, ছেলে বা মেয়ে বুঝি মন দিয়ে পড়াশোনা করছে। কিন্তু হঠাৎ পড়া ধরতে গিয়েই দেখলেন কাজের কাজ কিছুই হয়নি! আজ যে পড়াটা সে অবলীলায় পারল, কাল সেটাই আবার বেমালুম ভুলে বসে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবকই রেগে যান বা বকাঝকা শুরু করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সন্তানের ওপর রাগ না করে তাদের সমস্যাটা বোঝার চেষ্টা করুন।
অন্যমনস্কতা, দৈনন্দিন জীবনের কোনো সমস্যা বা অতিরিক্ত চঞ্চল স্বভাবের কারণে অনেক সময় বাচ্চারা পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের সঠিক পুষ্টির অভাবে স্মৃতিশক্তির ঘাটতি দেখা দেয়। শুধু পড়াশোনা নয়, পারিপার্শ্বিক বহু বিষয়ও তারা দ্রুত ভুলে যেতে শুরু করে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এবং সন্তানের স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে তাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু বিশেষ সুপারফুড রাখা অত্যন্ত জরুরি।
শিশুদের স্মৃতিশক্তি বাড়াবে যে খাবারগুলো:
ডিম: প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস হলো ডিম। প্রতিদিনের ডায়েটে ডিম রাখলে বাচ্চাদের মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশ সম্ভব হয়। এর মধ্যে থাকা ‘কোলিন’ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আখরোট: ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর আখরোট মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাদুকরি কাজ করে। মজার বিষয় হলো, এই শুকনো ফলটির গঠনও অনেকটা মানুষের মস্তিষ্কের মতো। প্রতিদিন একটি করে আখরোট খাওয়ালে ব্রেন দ্রুত কাজ করে এবং অবসাদ দূর হয়।
সবুজ শাকসবজি: বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সবুজ শাকসবজি স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা দূর করতে দারুণ কার্যকর। পালং শাক বা অন্যান্য শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে, ফোলেট ও বিটা ক্যারোটিন থাকে, যা মস্তিষ্ককে সুস্থ ও সতেজ রাখে।
দেশি ঘি: প্রতিদিন সকালে শিশুকে খাবারের সঙ্গে এক চামচ খাঁটি দেশি ঘি দেওয়া উচিত। এটি প্রাকৃতিকভাবে বাচ্চাদের স্মৃতিশক্তি মজবুত ও ধারালো করতে সাহায্য করে।
চিয়া বীজ: এই বীজে উচ্চ মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রাতে এক চামচ চিয়া বীজ জলে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে সেই জল পান করালে বা খাইয়ে দিলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়।
আভাকাডো: মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে এর কার্যকারিতা উন্নত করে আভাকাডো। এতে থাকা আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স শিশুর শরীর সুস্থ রাখতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
ওটস: ভিটামিন ই, জিঙ্ক এবং ফাইবার সমৃদ্ধ ওটস শিশুদের শরীরে দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগানোর পাশাপাশি ব্রেনের শক্তি বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত সহায়ক।
সন্তানের মেধা বিকাশ ও পড়া মনে রাখার ক্ষমতা বাড়াতে আজ থেকেই তাদের পাতে এই স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো যুক্ত করুন।