অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স মাঝপথেই বন্ধ করছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন সাক্ষাৎ মৃত্যুকে!

অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স কি মাঝপথেই থামিয়ে দিচ্ছেন? সামান্য উন্নতি দেখেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের অভ্যাস বর্তমানে এক ভয়ানক মহামারি রূপ ধারণ করছে। এর ফলে অজান্তেই শরীর এক চরম বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যার পোশাকি নাম ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ (AMR)।

চিকিৎসকদের মতে, বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামনে এখন অন্যতম বড় আতঙ্ক হলো এই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে ছোটখাটো কোনো ইনফেকশনেও যখন রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়াগুলো শরীরের ভেতর দানা বাঁধে, তখন আর প্রচলিত কোনো ওষুধে কাজ হয় না।

কেন তৈরি হয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স?
যখন কেউ চিকিৎসকের সম্পূর্ণ প্রেসক্রিপশন বা নির্দিষ্ট দিনের কোর্স শেষ না করে মাঝপথেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করে দেন, তখন পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার বদলে কিছু শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়া জীবিত থেকে যায়। পরবর্তী সময়ে এই ব্যাকটেরিয়াগুলো ওই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। ফলে ভবিষ্যতে একই অ্যান্টিবায়োটিক শরীরে আর কোনো প্রভাব ফেলে না এবং রোগের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

জীবন বাঁচাতে কী করণীয়?
কোর্স সম্পূর্ণ করুন: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত নিয়ম মেনে অ্যান্টিবায়োটিকের পুরো কোর্স শেষ করুন, মাঝপথে লক্ষণ কমে গেলেও বন্ধ করবেন না।

ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া নয়: ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে বা দোকানদারের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করুন।

ওষুধের নির্দিষ্ট সময় মেনে চলুন: প্রতিদিন সঠিক সময়ে নির্ধারিত মাত্রায় ওষুধ সেবন করা অত্যন্ত জরুরি।

সচেতনতাই পারে এই নিঃশব্দ বিপদ থেকে আমাদের সুরক্ষিত রাখতে। সামান্য অবহেলা ভবিষ্যতের জন্য কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা নিয়ে এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *