মাছের বৃদ্ধিতে এবার একেবারে অন্যরকম চমক! শান্তিনিকেতের পুকুরের মাছের খাবারে যোগ হচ্ছে সুগন্ধী এই ভেষজ উপাদানটি কী?

মাটির নীচে জন্ম নেওয়া আদার মতো এক ধরনের কন্দ—যার তীব্র গন্ধ ও আলাদা স্বাদ এবার থেকে কবিগুরুর বোলপুর শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীর মাছ চাষে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে। মাছের পুষ্টি ও খাবারের চাহিদা মেটাতে এখন থেকে খাবারের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে ‘একাঙ্গি’ বা ‘একনা’ গাছের কন্দের গুঁড়ো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভেষজ উপাদানের গন্ধ ও স্বাদ মাছকে খাবারের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে, যার ফলে মাছের খাদ্যগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি দ্রুত বৃদ্ধিও নিশ্চিত হবে।
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের নিজস্ব তিনটি বড় পুকুর—বড় বাঁধ, ছোট বাঁধ এবং লালবাঁধে বর্তমানে মাছ চাষ শুরু হয়েছে। এই পুকুরগুলির মাছের খাবারের চাহিদা মেটাতেই মূলত একাঙ্গির চাষ শুরু করা হয়েছে, যা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রয়োজনই মেটাবে। উৎপাদিত এই সমস্ত মাছ আগামী দিনে বিশ্বভারতীর পাঠভবন এবং আবাসিক পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। বোলপুর শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী তথা অধ্যাপিকা ডঃ দেবলিকা দালাল জানিয়েছেন, বর্ষাকালের একেবারে সূচনা লগ্নে খুব বেশি রোদ না থাকে এমন দোআঁশ বা ঝুরঝুরে বেলে দোআঁশ মাটিতে একাঙ্গি রোপণ করা সবচেয়ে উপযোগী।
সংবাদের মূল হাইলাইটস
নতুন উপাদান: বিশ্বভারতীর মাছের খাবারে এবার থেকে যোগ করা হচ্ছে সুগন্ধী ও ভেষজ গুণসম্পন্ন ‘একাঙ্গি’ বা ‘একনা’ গাছের কন্দের গুঁড়ো।
বিশেষ উপকারিতা: একাঙ্গির তীব্র গন্ধ ও স্বাদ মাছেদের খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তাদের দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বভারতীর পুকুর: বড় বাঁধ, ছোট বাঁধ এবং লালবাঁধ—এই তিনটি পুকুরের মাছের খাবারের চাহিদা মেটাতে এবং পরবর্তীতে পাঠভবন ও আবাসিক পড়ুয়াদের পুষ্টি জোগাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চাষের পদ্ধতি: বর্ষাকালের শুরুতে দোআঁশ বা ঝুরঝুরে বেলে দোআঁশ মাটিতে এই একাঙ্গি রোপণ করা সবচেয়ে ভালো সময় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।