ছেঁড়া কাপড়ে হাত পেতে বেড়ানো ভিক্ষুক বৃদ্ধার ঘরে মিলল বস্তা বস্তা টাকা! মৃত্যুর পর তাঁর ঘর থেকে ঠিক কী এমন উদ্ধার হলো যা দেখে চোখ কপালে উঠল সবার?

গায়ে থাকত ছেঁড়া জামাকাপড়, মুখের কোণে স্পষ্ট থাকত চরম দৈন্যের ছাপ। পথচলতি মানুষের কাছে হাত পেতে কোনোমতে দিন কাটানোই ছিল ৬৮ বছরের বৃদ্ধা নূরের দৈনন্দিন পরিচিতি। কর্ণাটকের মান্ডিয়া জেলার বাসিন্দারা তাঁকে এভাবেই চিনে এসেছিলেন। সারাজীবন অভাবের তাড়নায় কৃচ্ছ্রসাধন করে কাটানো সেই নিঃস্ব বৃদ্ধার মৃত্যুর পর তাঁর ঘর থেকেই উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও খুচরো কয়েনের পাহাড়।
সম্প্রতি বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বৃদ্ধা নূর। তাঁর মৃত্যুর পর স্থানীয় প্রতিবেশীরা যখন জরাজীর্ণ ঘরটি পরিষ্কার করতে যান, তখনই সেখানে এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের এক কোণে রাখা বেশ কিছু পাটের বস্তা দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়। এরপর বস্তাগুলির মুখ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় উপস্থিত সকলের। দেখা যায়, একাধিক পাটের বস্তা কানায় কানায় ভর্তি রয়েছে অজস্র খুচরো কয়েন এবং নগদ টাকার বান্ডিলে।
জীবিতকালে যাঁকে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত করুণার চোখে দেখেছেন, তাঁর ঘরে এমন গুপ্তধন দেখে হতবাক গোটা মান্ডিয়াবাসী। বছরের পর বছর ধরে ভিক্ষা করে পাওয়া প্রতিটি টাকা এবং পয়সা অত্যন্ত গোপনে ও সাবধানে জমিয়েই যে তিনি এই বিশাল সঞ্চয় গড়ে তুলেছিলেন, তা মেলাতে পারছেন না স্থানীয়রা। এদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নূরের বাড়ির সামনে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই এলাকার একটি মসজিদে দান করে দেওয়া হয়েছে। তবে এক ভবঘুরে ভিক্ষুকের জীবনের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা এই রহস্যময় সঞ্চয়ের গল্প এখন পুরো জেলার প্রধান আলোচনার বিষয়।
সংবাদের মূল হাইলাইটস
বিস্ময়কর উদ্ধার: কর্ণাটকের মান্ডিয়া জেলায় ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন কাটানো ৬৮ বছরের বৃদ্ধা নূরের মৃত্যুর পর তাঁর জরাজীর্ণ ঘর থেকে বস্তাবন্দী নগদ টাকা ও খুচরো কয়েন উদ্ধার হয়েছে।
চরম দারিদ্র্যের আড়ালে সঞ্চয়: সারাজীবন অত্যন্ত অভাব ও কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্যে দিন কাটালেও তিনি গোপনে তিল তিল করে এই বিশাল অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন।
চাঞ্চল্য ও কৌতূহল: বৃদ্ধার মৃত্যুর পর তাঁর ঘরে এত টাকা পাওয়ার খবরে গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
অর্থদান: স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধার ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ পরবর্তীতে একটি মসজিদে দান করা হয়েছে।