সামান্য ওষুধের জন্য আর কলকাতার ওপর নির্ভরতা নয়! উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে ঠিক কী বিরাট পরিবর্তন আনতে চলেছে এই দুই বড় উদ্যোগ?
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা আরও উন্নত, আধুনিক ও স্বনির্ভর করে তুলতে দুটি বড় ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হল। জরুরি প্রয়োজনে ওষুধ বা চিকিৎসা সামগ্রীর জন্য আর কলকাতার ওপর নির্ভর করে বসে থাকতে হবে না। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালেই তৈরি হতে চলেছে একটি আলাদা ড্রাগ ও ইকুইপমেন্ট স্টোর এবং পুরো অঞ্চলের প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য একটি রিজিওনাল ভ্যাকসিন সেন্টার।
হাসপাতাল সুপার কৌশিক ঈশ্বর জানিয়েছেন, নতুন ড্রাগ ও ইকুইপমেন্ট স্টোরে পর্যাপ্ত জীবনদায়ী ওষুধ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ মজুত রাখা সম্ভব হবে। এর ফলে সামান্য দরকারে বারবার কলকাতার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং জরুরি চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনাও হ্রাস পাবে। বর্তমানের স্যাঁতসেঁতে বা বর্ষার জল ঢোকার মতো স্টোরেজ সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ক্যানসার ইউনিট ও সুপার স্পেশালিটি ব্লক পুরোপুরি চালু হলে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতেও এই পৃথক স্টোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সম্মতি মেলার পাশাপাশি নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করা এবং সয়েল টেস্টের প্রাথমিক কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে।
পাশাপাশি, রিজিওনাল ভ্যাকসিন সেন্টারটি চালু হলে উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলার জন্য পর্যাপ্ত প্রতিষেধক সুরক্ষিতভাবে মজুত রাখা ও প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব হবে। নতুন দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রিন্সিপাল সুজয় মিস্ত্রি এবং সুপার কৌশিক ঈশোরের যৌথ উদ্যোগে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি নিয়মিত ওয়ার্ড পরিদর্শনের মাধ্যমে চিকিৎসার মান আরও গতিশীল করা হয়েছে। জোড়া পরিকাঠামো চালুর ফলে উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সংবাদের মূল হাইলাইটস
পৃথক ড্রাগ ও ইকুইপমেন্ট স্টোর: কলকাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালেই তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক ওষুধ ও সরঞ্জাম সংরক্ষণের আলাদা পরিকাঠামো।
রিজিওনাল ভ্যাকসিন সেন্টার: উত্তরবঙ্গের সবক’টি জেলার ভ্যাকসিন ও প্রতিষেধকের চাহিদা মেটাতে এবং দ্রুত সরবরাহের জন্য বিশেষ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ।
ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ: আগামিদিনে ক্যানসার ইউনিট এবং সুপার স্পেশালিটি ব্লক চালুর কথা মাথায় রেখেই এই জোড়া পরিকাঠামো তৈরির সিদ্ধান্ত।
দ্রুত অগ্রগতি: ইতিমধ্যেই প্রকল্পের সরকারি অনুমোদন মিলেছে, জায়গা চিহ্নিতকরণ ও সয়েল টেস্ট বা মাটি পরীক্ষার কাজও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।