বিয়ের মাত্র চার মাস কাটতে না কাটতেই সব শেষ! প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অন্তঃসত্ত্বা আধিকারিকের রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্য

বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথাতেই মর্মান্তিক পরিণতি! দিল্লির দ্বারকায় নিজের বাড়ি থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক অন্তঃসত্ত্বা আধিকারিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। মৃতের পরিবারের তরফে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
মৃত ওই যুবতীর নাম নাজিয়া খানম, বয়স ত্রিশ বছর। তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে সহকারী শাখা আধিকারিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত এগারো এপ্রিল আজম আলি খানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর সময় তিনি প্রায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই তাঁর ওপর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন অত্যাচার চালাতেন বলে অভিযোগ পরিবারের। নাজিয়া একাধিকবার পরিজনদের কাছে স্বামীর দুর্ব্যবহারের কথা জানিয়েছিলেন বলেও তাঁদের দাবি।
গত একুশ আগস্ট ভোররাতে নাজিয়ার পরিবারের কাছে তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, পারিবারিক অশান্তির জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। নাজিয়ার স্বামীর দাবি, তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটির পর ওই যুবতী ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন এবং পরে দরজা ভেঙে তাঁকে জানলার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তবে এই তত্ত্ব মানতে একেবারেই নারাজ মৃতার পরিবার। তাঁদের স্পষ্ট সন্দেহ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং তাঁকে খুন করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য দীনদয়াল উপাধ্যায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি যাতে ভিডিওগ্রাফি করা হয় এবং সমস্ত প্রমাণ সুরক্ষিত রাখা হয়, সেই দাবিও জানিয়েছেন মৃতার বাবা। ঘটনার জেরে পুলিশ একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।