রাতের খাবারে বেগুনের ভর্তা খাওয়ার পরই রহস্যমৃত্যু তিন বোনের! ছোট শিশুর বয়স মাত্র ৯ মাস

রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো তিন বোনের। যার মধ্যে ছোট শিশু কন্যার বয়স মাত্র ৯ মাস! মধ্যপ্রদেশের ছত্তরপুর জেলায় ঘটা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘বেগুনের ভর্তা’। সূত্রের খবর, মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নাকি ওই তিন বোন রাতের খাবারে বেগুনের ভর্তা খেয়েছিল। আর তারপরেই সব শেষ! ঘটনার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ায় কবর থেকে দেহগুলি তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঠিক কী ঘটেছিল?

ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ছত্তরপুরের ইসানগর থানার অন্তর্গত পিপোরা খুর্দ গ্রামে। মৃত তিন বোনের বয়স যথাক্রমে ৭ বছর, ৩ বছর এবং সবচেয়ে ছোট জনের বয়স মাত্র ৯ মাস। তাঁরা সকলেই বালমুকুন্দ কুশওয়াহার কন্যা। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগের রাতে তিন বোন রুটির সঙ্গে বেগুন ভর্তা খেয়েছিল। তবে ওই খাবারের সঙ্গে তাদের মৃত্যুর সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন।

লুকোচুরি ও পুলিশের নজরে আসার ঘটনা

সবচেয়ে বড় রহস্যজনক বিষয় হলো, মৃত্যুর পর পরিবার পুলিশকে কোনও খবর না দিয়েই এবং ময়নাতদন্তের কোনো রকম ব্যবস্থা না করেই তড়িঘড়ি তিন শিশুর দেহ কবর দিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতর।

কী বলছে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ?

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ছত্তরপুরের চিফ মেডিক্যাল অ্যান্ড হেলথ অফিসার (CMHO) আরপি গুপ্তা একটি চিকিৎসকদের দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পুলিশ, রাজস্ব দফতর এবং ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL)-এর একটি বিশেষ দলও গ্রামে গিয়ে কবরস্থল পরিদর্শন করে।

সিএমএইচও আরপি গুপ্তা জানান, তিন শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সমস্ত দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে দেহগুলি কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার পরেই মৃত্যুর আসল কারণ পরিষ্কার হবে।

মৃত্যুর ঠিক আগে ও পরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে পরিবারের সদস্যদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তিন শিশু কখন এবং কীভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খাবারের বিষক্রিয়া নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে? আপনার কী মনে হয়? কমেন্টে জানান!

Editor001
  • Editor001

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *