১০ কেজি সোনা উদ্ধার ঘিরে ধুন্ধুমার! যোগী পুলিশের বিরুদ্ধে কোন মারাত্মক অভিযোগ তুললেন অখিলেশ?

লখনউ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়ের তালগ্রাম এলাকায় পুলিশের একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০ কেজি সোনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাসরি উত্তরপ্রদেশ পুলিশ-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি কটাক্ষের সুরে লিখেছেন, “দশটা দেখিয়েছিল, ষোলটা গিলেছে, এটাই বিজেপির পুলিশের জাদু।”

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি তালগ্রাম থানার একটি দল রুটিন দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার সময় খবর পায় যে আগ্রা-লখনউ এক্সপ্রেসওয়েতে একটি চারচাকা গাড়ি পুলিশের একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা মেরেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মহারাজগঞ্জ জেলার সন্দীপ জয়সওয়াল এবং নেপালের সরোজ পান্ত নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করে। এরপর গাড়িটি তল্লাশি করে একটি ব্যাগ থেকে হলুদ ধাতুর ১০টি বিস্কুট বা সোনার বার উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া সোনা সম্পর্কে ওই ব্যক্তিরা কোনো বৈধ কাগজপত্র, বিল বা লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। পরবর্তীতে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া-এর একজন স্বর্ণ মূল্যায়নকারীকে ডেকে জব্দকৃত ধাতুর বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করা হয়। পুলিশ সুপার বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া সোনাটি ২৪ ক্যারেটের এবং এর মোট ওজন প্রায় ১০.০২৬ কিলোগ্রাম, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১৫.৩৯ কোটি টাকা। এই বিশাল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের পর ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে জিএসটি ও শুল্ক বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে গোটা ঘটনাটি সামনে আসার পরই এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডলে পোস্ট করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন অখিলেশ যাদব। তাঁর দাবি, পুলিশ প্রকৃত ঘটনার সত্যতা লুকিয়ে গোলমাল পাকাতে চাইছে। নেপাল থেকে গোরক্ষপুর এবং সেখান থেকে দিল্লি—এই পুরো রুটেই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে চোরাচালানের সিন্ডিকেট চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পুলিশ ও জিএসটি আধিকারিকরা এই আন্তর্জাতিক সোনা চোরাচালান চক্রের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *