বাংলাদেশে ফের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড! একই পরিবারের চারজনের নিথর দেহ উদ্ধারে ঘনাচ্ছে রহস্য

প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আবারও এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাংলাদেশের রংপুরে নিজ বাড়ি থেকে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক এবং তাঁর পরিবারের চার সদস্যের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, রংপুরের দাসপাড়া এলাকা থেকে ওই চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের ৬৫ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ৫০ বছরের প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ২৩ বছরের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ১২ বছরের এক ছোট ছেলে। পরিবারের সূত্র মারফত জানা গেছে, গণপতির মেয়ে রংপুর কলেজে ইংরেজি বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছিলেন এবং তাঁর ছেলে ওই একই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে ওই পরিবারের কারো সঙ্গেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। সবার ফোনই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশে খবর দেন উদ্বিগ্ন আত্মীয়রা। শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই বাড়ির বন্ধ সদর দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপরই বাড়িটির বিভিন্ন স্থান থেকে একের পর এক চারটি নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক প্রতিবেশীরাও। সম্প্রতিই দাসপাড়ায় ওই নতুন বাড়িটি তৈরি করেছিলেন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। হত্যাকাণ্ডের সময় ঘরের ভিতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল এবং সমস্ত আলো নিভানো অবস্থায় পাওয়া যায়।

ঘটনার পরই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি। শিক্ষকের ছাদ থেকে, সিঁড়ি থেকে মা ও মেয়ের এবং একটি ঘর থেকে ছেলের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই সমস্ত মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালাল, তা নিয়ে এখনও পুরোপুরি ধোঁয়াশায় রয়েছে প্রশাসন ও পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *