চাকরি বাঁচানোর শেষ চেষ্টা! মেয়াদ ফুরোলেও নতুন নিয়োগ না হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টে বড় আর্জি SSC-র

২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের মামলায় আইনি লড়াই ও জট কাটানোর প্রক্রিয়া এখনও চলছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষকদের একাংশের স্কুলে কাজ করার বর্তমান মেয়াদ আগামী ৩১ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব না হওয়ায় বড় পদক্ষেপ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ আরও বাড়ানোর আর্জি জানিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এই দুই কর্তৃপক্ষ।
শনিবার উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদে সারদা বিদ্যামন্দির ক্যাম্পাসে ‘উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজ্ঞান মেলা’-য় যোগ দিয়েছিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এবং দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষক নিয়োগ মামলার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, যোগ্য প্রার্থীরা ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত স্কুলে কাজ করার আইনি অনুমতি পেয়েছেন। কিন্তু নতুন নিয়োগের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় বর্তমান যোগ্য শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছে।
দীপক বর্মন আরও জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে SSC-র চেয়ারম্যান পদে একজন সরকারি আমলাকে রেখে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটিই দ্রুত নিয়োগের বাকি কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব না হওয়ায় বর্তমান শিক্ষকদের প্যানেলের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে ২৬ হাজারের বেশি চাকরি বাতিল করেছিল আদালত। সুপ্রিম কোর্ট সে সময় জানিয়েছিল, প্যানেল থেকে যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করা সম্ভব নয়। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের চিহ্নিত করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রথমে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষকদের কাজের অনুমতি দেওয়া হলেও, পরবর্তী সময়ে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট করা হয়। কিন্তু নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও শেষ না হওয়ায় ফের আদালতের দ্বারস্থ হতে হল কমিশনকে।
অন্যদিকে, রাজ্যের প্রায় দুই হাজার হাই স্কুলে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া আনতে খুব শীঘ্রই ‘অটল টিঙ্কারিং ল্যাব’ (ATL) চালুর পরিকল্পনাও জোরকদমে এগোচ্ছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা যাতে রোবটিক্স সায়েন্স, থ্রি-ডি প্রিন্টার, সেন্সর এবং ওপেন-সোর্স মাইক্রোকন্ট্রোলার বোর্ডের মতো আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।