জোকা থেকে সোজা নৈহাটি! এয়ারপোর্ট ও টাটা হাসপাতালের যোগাযোগ আরও সহজ করে নামল নতুন এসি বাস পরিষেবা, ভাড়া কত?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার একেবারে প্রান্তিক অঞ্চল জোকার সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর নৈহাটিকে এবার সরাসরি এসি বাস পরিষেবায় জুড়ে দেওয়া হলো। এর ফলে নৈহাটি থেকে যেমন সরাসরি এয়ারপোর্টে পৌঁছানো সম্ভব হবে, তেমনই কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও অনেক বেশি সহজ হয়ে গেল। সম্প্রতি নৈহাটির মূল বাস টার্মিনাস থেকে সবুজ পতাকা নেড়ে এই নতুন যাত্রাপথের শুভ সূচনা করা হয়েছে।
রুট ও যাতায়াতের সুবিধা
সম্পূর্ণভাবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি মডেল অনুসরণ করে এই আধুনিক বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে। নৈহাটি থেকে যাত্রা শুরু করে বাসগুলি পরপর শ্যামনগর, ব্যারাকপুর, সোদপুর এবং ডানলপের মতো জনবহুল এলাকা ছুঁয়ে যাবে। এরপর প্রখ্যাত দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত্বর পার হয়ে এটি সরাসরি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় পৌঁছবে, যা বিমান যাত্রীদের জন্য এক দারুণ খবর।
এরপর চিনার পার্ক, সল্টলেকের করুণাময়ী, নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা গেট হয়ে এটি ওয়েবেল মোড় এবং স্বনামধন্য টাটা মেডিক্যাল হাসপাতালের ঠিক সামনে এসে থামবে। ফলে আইটি কর্মী থেকে শুরু করে ক্যানসার চিকিৎসার জন্য আসা দূরদূরান্তের রোগীদের কাছে এই পরিষেবা আক্ষরিক অর্থেই আশীর্বাদস্বরূপ। সবশেষে চিংড়িঘাটা ও শিয়ালদহ স্টেশন হয়ে আলিপুর পার করে একেবারে দক্ষিণ প্রান্তের জোকায় গিয়ে এই দীর্ঘ যাত্রাপথ শেষ হবে।
সাশ্রয়ী ভাড়া ও প্রাথমিক পরিকাঠামো
সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে এই দীর্ঘ যাত্রাপথের ভাড়া অত্যন্ত পকেট-বান্ধব বা সাশ্রয়ী সীমার মধ্যে রাখা হয়েছে। নৈহাটি থেকে জোকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ যাত্রাপথের জন্য সর্বনিম্ন ভাড়া মাত্র ২৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ভাড়া ১৩৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। সাধারণত অ্যাপ ক্যাব বা ট্যাক্সিতে এই দূরত্ব অতিক্রম করতে গেলে মোটা টাকা খরচ হয়, কিংবা সাধারণ বাসে একাধিকবার পথ পরিবর্তন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় যাত্রীদের। সেইদিক থেকে এই এসি বাস পরিষেবা সাধারণ মানুষের যাতায়াতকে অনেক বেশি আরামদায়ক করে তুলবে।
আপাতত প্রথম পর্যায়ে দশটি বাস দিয়ে এই পরিষেবা শুরু করা হয়েছে। তবে পরিবহণ দফতরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী দিনে যাত্রীদের চাহিদা বাড়লে বাসের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে।