রানাঘাট থেকে সোজা নেপাল! মোদিজি ও পদ্মফুল আঁকা রাখির বাম্পার বিক্রিতে রমরমা বাজার

রাজ্যে রাজনৈতিক আবহ এবং উৎসবের মরশুম মিলেমিশে একাকার। সামনেই পবিত্র রাখিবন্ধন উৎসব, আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নদিয়ার রানাঘাটের কারিগর ও ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা এখন একেবারে তুঙ্গে। তবে এ বছরের রাখি বাজারে সবথেকে বড় চমক ও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি এবং বিজেপি দলের প্রতীক ‘পদ্ম ফুল’ আঁকা বিশেষ রাখি। স্থানীয় বাজার পেরিয়ে ভিন রাজ্য এবং দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই রাখির আকাশছোঁয়া চাহিদা এখন তুঙ্গে।

রানাঘাটের ঘরে ঘরে রাখি তৈরির ধুম রানাঘাটের শরৎপল্লীর বাসিন্দা পিউ ঘোষ। প্রায় ৩০ বছর ধরে তাঁদের পরিবার এই রাখি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসে পুরোপুরি এই ব্যবসার হাল ধরেন তিনি। পিউ দেবী জানান, প্রতি বছরই ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নতুন নতুন নকশা আনা হয়, তবে এবার মোদিজি এবং পদ্ম ফুলের রাখি নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে যে উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে, তা সত্যিই চোখে পড়ার মতো।

সারা বছর টুকটাক কাজ চললেও প্রতি বছর মে মাস থেকে অগাস্ট মাস পর্যন্ত রাখি তৈরির আসল মরশুম চলে। এই চার মাস দিন-রাত এক করে কঠোর পরিশ্রম করেন এলাকার শতাধিক গৃহবধূ। সংসারের নিত্যদিনের কাজ সামলে ঘরের ভেতরেই তৈরি হয় হাজার হাজার রকমারি ও আকর্ষণীয় রাখি। আর এর সুবাদেই উৎসবের মরশুমে ঘরের কাজ সামলে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন রানাঘাটের নারীরা।

দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও কদর রানাঘাটের শরৎপল্লীতে তৈরি এই রাখি শুধু স্থানীয় বাজার বা রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেই সীমাবদ্ধ নেই। এখান থেকে রাখি পৌঁছে যাচ্ছে মুম্বই, দিল্লি এবং ব্যাঙ্গালোরের মতো দেশের বড় বড় মেগাসিটিতেও। শুধু তাই নয়, জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে নেপাল এবং ভুটানেও প্রতিদিন পাড়ি দিচ্ছে রানাঘাটের এই রাখি।

ব্যবসায়ীদের আশা, রাখির দিন যত এগিয়ে আসবে, এই মোদি ও পদ্ম রাখির বিক্রি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সব মিলিয়ে, উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই রানাঘাটের রাখি শিল্পে এখন চরম ব্যস্ততা এবং কারিগরদের মুখে উপচে পড়ছে লক্ষ্মীলাভের চওড়া হাসি।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *