স্কুলে খাস কামরায় তুলকালাম! শিক্ষকের গায়ে হাত তুললেন মহিলা কর্মী, চুলোচুলিতে ধুন্ধুমার মালদায়

স্কুলের ভেতরে এক মহিলা শিক্ষাকর্মী এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হাতাহাতি ও চুলোচুলির নজিরবিহীন ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদা জেলাজুড়ে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে পড়ুয়ারা—সকলেই এই অপ্রীতিকর ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদার বামনগোলা ব্লকের জগদলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

মহিলা ক্লার্কের মারাত্মক অভিযোগ সম্পূর্ণ ঘটনাটি নিয়ে অভিযুক্ত মহিলা ক্লার্ক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, স্কুলের টিআইসি (TIC) অমিত হালদার দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে দিয়ে অনৈতিক ও জবরদস্তি কাজ করানোর চেষ্টা করছিলেন। তাঁর কথায়, “উনি আমাকে জোর করে টিসি (TC) রেডি করতে বলেছিলেন। আমি সেই কাজ না করায় উনি আমার গায়ে হাত তোলেন। শুধু তাই নয়, পড়ুয়াদের উসকে দিয়েই ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। স্কুলে একাধিক দুর্নীতি চলছে। আমরা কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দাবি করছি। আমাকে কুপ্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।”

পাল্টা সাফাই টিআইসি অমিত হালদারের অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে টিআইসি অমিত হালদার বলেন, “আমি ১৮ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। ওই মহিলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য অভিযোগ করছেন। দেড় বছর আগে উনি স্কুলে যোগদানের পর থেকেই কোনো কাজ ঠিকমতো করেন না। ট্রান্সফার সার্টিফিকেটকে কেন্দ্র করেই মূলত এই ঘটনার সূত্রপাত। ওঁকে কাগজ রেডি করতে বলা হলে উনি উলটে আমাকে সই করতে বলেন। উনি আমাকে এভাবে নির্দেশ দিতে পারেন না, আমি কেবল সেই কথাই বলেছিলাম।”

তিনি আরও দাবি করেন, সেই সময় ওই মহিলা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাঁর গায়ে হাত বা চড় মারেন। মানসম্মানের খাতিরে তিনি চুপ করে নিজের চেয়ারে বসে পড়েন। বাইরে কী ঘটেছে তাঁর জানা নেই। পরে পুলিশ আসে এবং তিনি জানতে পারেন যে ওই মহিলা পড়ুয়াদেরও মারধর করেছেন।

পড়ুয়াদের বয়ান ও স্কুল চত্বরে উত্তেজনা স্কুলের এক ছাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঝগড়ার খবর পেয়ে তারা সেখানে গিয়ে দেখতে পান ওই ম্যাডাম স্যারকে চড় মেরেছেন। এর কারণ জিজ্ঞাসা করতে গেলে ওই শিক্ষাকর্মী এক ছাত্রের গলা টিপে ধরেন এবং মেরে ফেলার হুমকি দেন। এক ছাত্রের দাবি, “টিফিনের সময় হেড স্যারের সঙ্গে ঝগড়ার সময় ম্যাডাম স্যারকে চড় মারেন। আমরা বিষয়টি জানতে গেলে উনি উলটে আমাদের মারধর করেন। আমার ও আমার বোনের গায়ে আঁচড়ের দাগ রয়েছে। আমরা চাই ওই ম্যাডামকে অবিলম্বে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হোক।”

পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে স্কুলে পুলিশ আসে। পরবর্তীতে মেডিকেল করানোর সময় ওই শিক্ষাকর্মীর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে স্কুলের শিক্ষকদের মারধর করারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মালদা জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ঘটনায় মহিলার স্বামীর পক্ষ থেকে বামনগোলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *