পহেলগাঁও হামলা কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ! জঙ্গিপ্রধান হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে সমন ও জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা এনআইএ-র

পহেলগাঁও হামলা কাণ্ড: লস্কর প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা ও সমন জারি এনআইএ-র
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন দিল্লি: পহেলগাঁও হামলায় অভিযুক্ত পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদকে বিচারের মুখোমুখি করতে এবার কঠোর পদক্ষেপ করল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে এই সমন পাঠানো হচ্ছে, যার মাধ্যমে সইদকে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য জম্মুতে অবস্থিত এনআইএ-র বিশেষ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, আদালতের তরফে ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। এনআইএ এই ভয়াবহ হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তাকে অভিযুক্ত করেছে।
সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে নাম ও আইনি ধারা
চলতি বছরের জুলাই মাসে দাখিল করা একটি চার্জশিটে এনআইএ সইদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে। সেখানে তাকে ব্যক্তিগতভাবে এবং নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-ই-তইবা (LeT) ও তার প্রক্সি সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩’ এবং ‘বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন, ১৯৬৭’-এর বিভিন্ন কঠোর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং সীমানা পার থেকে হামলা চালানোর ষড়যন্ত্র করা। এনআইএ-র মূল ১,৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটের ধারাবাহিকতায় এই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটটি দাখিল করা হয়।
তদন্তের বিবরণ: তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই চার্জশিটে পাকিস্তান-ভিত্তিক ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত বিবরণ, সইদের ভূমিকা এবং তদন্তকালে সংগৃহীত অকাট্য প্রমাণের উল্লেখ রয়েছে। মূল চার্জশিটে পাকিস্তানের কথিত হ্যান্ডলার সাজিদ জাট এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের নাম ও লস্কর-টিআরএফের ভূমিকার কথা বলা হয়েছিল।
পহেলগাঁওয়ের মর্মান্তিক ঘটনা
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিরা পর্যটকদের লক্ষ্য করে বর্বরোচিত হামলা চালায়। এই হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হন। শুরুতে স্থানীয় পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করলেও, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পরে তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয়।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেও যদি সইদ আদালতে হাজির হতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩’-এর ৩৫৬ নম্বর ধারার অধীনে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। পলাতক এবং অধরা অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে এই বিশেষ বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।