সরকারি টাকা নয়ছয়! সাড়ে ৪ লক্ষ সরকারি কর্মীর কাছ থেকে টাকা ফেরতের কড়া পদক্ষেপ সরকারের

লড়কি বহেন যোজনা নিয়ে বড়সড় চাঞ্চল্য! ৯২ লক্ষ অযোগ্য উপভোক্তার তালিকা প্রকাশ, ফেরত নেওয়া হবে টাকা
মহারাষ্ট্রের জনপ্রিয় মহিলামুখী আর্থিক প্রকল্প ‘লড়কি বহেন যোজনা’ (Ladki Bahin Yojana) নিয়ে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারি তথ্য যাচাই বা ভেরিফিকেশনের পর দেখা গিয়েছে, এই প্রকল্পের অধীনে দীর্ঘ সময় ধরে বহু অযোগ্য ও ভুয়ো উপভোক্তা আর্থিক সহায়তা পেয়ে আসছিলেন। আরটিআই (RTI)-এর মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসা এই তথ্যে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন।
খবরের চুম্বক অংশ (Key Highlights)
-
ভাম ও অযোগ্য উপভোক্তার পাহাড়প্রমাণ সংখ্যা: আরটিআই রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় ৯২ লক্ষ অযোগ্য উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লড়কি বহেন যোজনার টাকা জমা পড়েছে। সরকারি কোষাগার থেকে এই খাতে মোট ৯,৬০৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
-
কীভাবে নাম ঢুকল অযোগ্যদের?
-
ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করায় ৬২ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
-
প্রায় ১৬ লক্ষ এমন পরিবারের মহিলারা এই সুবিধা নিয়েছেন যাঁদের বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার বেশি।
-
প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও আধিকারিকের পরিবারের সদস্যরাও এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন।
-
এছাড়া বয়স্ক (৬৫ বছরের বেশি বয়স ১.৮ লক্ষ), একই পরিবারের একাধিক সদস্য এবং ইতিমধ্যেই অন্য প্রকল্পের সুবিধাভোগীরাও এই তালিকায় ছিলেন।
-
-
কারা টাকা ফেরত দেবেন? নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগ সূত্রে জানানো হয়েছে, সমস্ত অযোগ্য উপভোক্তার কাছ থেকে এই টাকা ফেরত নেওয়া হবে না। তবে যে সাড়ে চার লক্ষ সরকারি কর্মচারী এই প্রকল্পের অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন, শুধুমাত্র তাঁদের কাছ থেকেই অনুদান বা ভাতার অর্থ পুনরুদ্ধার করা হবে। সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই পুনরুদ্ধারের নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
বর্তমানে মহারাষ্ট্রের প্রায় ১.৬৫ কোটি মহিলা এই প্রকল্পের আসল সুবিধা পাচ্ছেন। তবে এই বিশাল জালিয়াতি ও গরমিলের পর ভবিষ্যতে যাতে আরও কঠোরভাবে তথ্য যাচাই করা হয়, সেই বিষয়ে তৎপর হয়েছে প্রশাসন।