দিল্লিতে লাফিয়ে বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু! একদিনেই আক্রান্ত শতাধিক, জরুরি বৈঠকে জেপি নাড্ডা

জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে লাফিয়ে বাড়ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও সোয়াইন ফ্লুর প্রকোপ। সাম্প্রতিক দৈনিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, রাজধানীতে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণের একটি বড় অংশের জন্যই দায়ী H1N1 ভাইরাস। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে এবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ডাক দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
দৈনিক আক্রান্তের পরিসংখ্যান কী বলছে?
দিল্লি সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট একদিনেই নতুন করে ১৫৯ জন ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র H1N1 ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১১৪ জন। অর্থাৎ, একদিনে যতজন নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগী চিহ্নিত হয়েছেন, তার প্রায় ৭২ শতাংশই সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত। এই নতুন সংক্রমণের ফলে চলতি বছরে দিল্লিতে H1N1 আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৭৭৭ জনে। পাশাপাশি, চলতি বছরে সামগ্রিকভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ (Influenza A)-তে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গেছে ২,৩৯২টিতে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত রাজধানীতে মোট ২,৬০২ জন ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২,৩৯২ জন ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা এ’ এবং ২১০ জন ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা বি’ (Influenza B) উপধরণে আক্রান্ত হয়েছেন।
উদ্বেগে কেন্দ্র, তলব জরুরি বৈঠক
আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে চলায় এবার নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক সহ দিল্লি সরকারের শীর্ষ স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। এই বৈঠকে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান, H1N1 ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার এবং তা রোধে সরকারি প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ ও তা নিয়ন্ত্রণের পরবর্তী পদক্ষেপগুলোও পর্যালোচনা করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা
চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতাই এই সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় উপায়। তাই সাধারণ মানুষকে কিছু নির্দিষ্ট সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে:
মাস্ক ব্যবহার: জনবহুল ও ভিড়ভাট্টা পূর্ণ এলাকায় মাস্ক পরার অভ্যাস করুন, যেখানে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন।
পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুতে হবে এবং অপ্রয়োজনে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
উপসর্গ দেখা দিলে: জ্বর, সর্দি, কাশি বা ফ্লুর মতো কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে নিজে কোনো ওষুধ খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন এবং অন্যদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।