বর্ষার মাঝপথে বড় বিপত্তি! এল নিনোর ছোবলে থমকে গেল দেশের মনসুন?

চলতি মনসুন সিজনে ভারতের বর্ষার ভাগ্য যেন মাঝপথে এসে পুরোপুরি থমকে গেছে। স্যাটেলাইটের সর্বশেষ চিত্র বলছে, মধ্যপ্রদেশসহ দেশের মধ্যাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলেই এখন আটকে রয়েছে শক্তিশালী মেঘের পুঞ্জ। এই অঞ্চলগুলোতে একটানা বৃষ্টিপাত চললেও উত্তর, পশ্চিম এবং দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে প্রায় অনাবৃষ্টি কিংবা হালকা মেঘলা আকাশের অধীনে। সব মিলিয়ে চলতি বছরে এক চরম অসম বর্ষার ছবি দেখছে দেশবাসী।
কেন এই পরিস্থিতি?
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণায়ন বা ‘এল নিনো’ ধীরে ধীরে ভারতের মৌসুমি বায়ুর ওপর প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। এর জেরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দেশজুড়ে বৃষ্টির স্বাভাবিক বণ্টন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাধারণত যে পরিমাণ বৃষ্টির প্রয়োজন হয়, এল নিনোর বাধার কারণে তা এখন অনেকটাই স্তিমিত। উত্তর পাঞ্জাব বা জম্মু ও কাশ্মীরে দু-একটি স্থানীয় ঝড়-বৃষ্টি হলেও তা সার্বিক শুষ্কতা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
বৃষ্টির একমাত্র ভরসা নিম্নচাপ
তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও মৌসুমি বায়ুকে পুরোপুরি নিভে যেতে দেয়নি বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একের পর এক লঘুচাপ ও নিম্নচাপ। সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতা টেনে এনে দেশের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করিয়ে এই নিম্নচাপগুলো যেন সাময়িক ‘বৃষ্টির ইঞ্জিন’ হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে পূর্ব মধ্যপ্রদেশ এবং তার আশপাশের অঞ্চলের ঘূর্ণাবর্তের কারণে মধ্য ভারতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এই লঘুচাপগুলোর শক্তিশালী প্রতিরোধের ফলেই এল নিনোর মারাত্মক প্রভাব সত্ত্বেও দৈনিক বৃষ্টির ঘাটতি এখনও নাগালের বাইরে চলে যায়নি।
আগামী দিনে কোন আশঙ্কার মেঘ?
এল নিনো এবং স্থানীয় নিম্নচাপের এই লাগাতার লড়াইয়ের ফলে দেশের সার্বিক বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কমই রয়েছে। তবে বড় ধরনের খরা বা তীব্র পতন আপাতত ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। মধ্য ভারতের এই সক্রিয়তাই যেন একপ্রকার টিকিয়ে রেখেছে পুরো দেশের বর্ষার অস্তিত্ব। আগামী দিনগুলোতে এল নিনোর দাপট আরও বাড়লে অন্যান্য অঞ্চলে বৃষ্টির ঘাটতি আরও তীব্র আকার ধারণ করে কি না, এখন সেদিকেই গভীর নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা।