‘ব্যবসা গুটোতে হবে!’ চিনির লাগামছাড়া বৃদ্ধিতে মাথায় হাত মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের

আসন্ন পুজোর মরসুমের আগেই খোলা বাজারে হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম। আর এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি কোপ পড়েছে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির বাজারে। উৎসবের দিনগুলোতে কব্জিপুরে রসনা তৃপ্ত করতে গিয়ে এবার যে মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত ১৫ দিনের ব্যবধানে চিনির দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অতীতে যে চিনি কিলোগ্রাম প্রতি ৪৫ টাকায় পাওয়া যেত, তা বর্তমানে লাফিয়ে বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে ৬৮ টাকায়। চিনির দামের এই ছ্যাঁকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়েছে রান্নার তেল ও বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দামও। ফলে মিষ্টি তৈরির সামগ্রিক উৎপাদন খরচ একলাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে। লোকসানের মুখে পড়ে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে মিষ্টির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ দাম অপরিবর্তিত রাখতে মিষ্টির আকৃতি ছোট করার পথ বেছে নিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট দাবি, এভাবে চিনির দাম বাড়লে মিষ্টির দাম না বাড়িয়ে কোনো উপায় থাকে না। কিন্তু এক ধাক্কায় অতিরিক্ত দাম বাড়ালে সাধারণ ক্রেতাদের আকর্ষণ কমবে এবং ছোট ও মাঝারি বহু মিষ্টির দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের সোজা অভিযোগ, একশ্রেণির অসাধু মজুতদার কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে এই দাম বাড়াচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই বাজার মনিটরিং করা না হলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে।
বর্ধমান সীতাভোগ ও মিহিদানা ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি দেবাদিত্য চক্রবর্তী এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত এক মাস ধরে লাগাতার কুইন্টাল প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে দাম বাড়ছে। বিভিন্ন গদিতে দামের এই ফারাক একচেটিয়া ব্যবসার দিকে ইঙ্গিত করছে। তাঁর কথায়, কাস্টমারের পক্ষেও তো একটা নির্দিষ্ট সীমার বাইরে গিয়ে বেশি দাম দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। অন্য এক ব্যবসায়ী আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, ১০ টাকার একটি রসগোল্লা তৈরি করতে আজ যেখানে ২০ টাকার বেশি খরচ পড়ছ, সেখানে সামান্য লাভের মুখ দেখতে গিয়ে দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা নিয়ে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় তাঁরা।