হাসপাতালে আটকে গেলে কোথায় জানাবেন অভিযোগ? জেন নিন আয়ুষ্মান ভারতের যাবতীয় নিয়মকানুন

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গত ১৬ আগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো কেন্দ্রের জনপ্রিয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ পাবেন ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবা। মূলত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবার এবং দেশের বয়স্ক নাগরিকদের (৭০ বছর বা তার বেশি বয়সি) কথা মাথায় রেখেই এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পাবেন কত মানুষ?
দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্প থেকে রাজ্য বঞ্চিত থাকলেও, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রায় দেড় কোটি পরিবার—অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি মানুষ এবার থেকে এই প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা পেতে চলেছেন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই প্রকল্পের পরিধিও যথেষ্ট বাড়ানো হয়েছে। রাজ্যের প্রায় ১৯৩০টি হাসপাতালকে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩০৩টি বেসরকারি এবং ৬৮৭টি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। ফলে প্রচলিত স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের তুলনায় আয়ুষ্মান ভারতে তালিকাভুক্ত হাসপাতালের সংখ্যা অনেকটাই বেশি।

কার্ড থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা না পেলে কী করবেন?
অনেক সময় কার্ড থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় রোগীদের। যদি কোনো হাসপাতাল আয়ুষ্মান কার্ডের সুবিধা দিতে অস্বীকার করে, তবে ঘরে বসে সরাসরি সরকারি গ্রিভ্যান্স পোর্টালে অভিযোগ জানাতে পারবেন উপভোক্তারা।

অনলাইন অভিযোগ পদ্ধতি: অফিশিয়াল পোর্টালে মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করে কার্ড নম্বর, রোগের নাম, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের নাম এবং ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ জমা দিতে হবে। এমনকি এর সঙ্গে প্রেসক্রিপশন বা বিলের ছবিও আপলোড করা সম্ভব।

টেলিকম বা ফোন মারফত অভিযোগ: যাঁদের কাছে স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট নেই, তাঁদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। সরাসরি টোল ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর ১৪৫৫৫-এ ফোন করেও ২৪ ঘণ্টা অভিযোগ নথিভুক্ত করা যাবে।

অভিযোগ জমা পড়ার পর তা জেলা, রাজ্য ও জাতীয় স্তরের গ্রিভ্যান্স টিমের কাছে পৌঁছাবে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হবে এবং অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। হাসপাতালে যাওয়ার সময় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও পুরনো মেডিক্যাল রিপোর্ট সঙ্গে রাখলে চিকিৎসা ও ভর্তি প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত সম্পন্ন হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *