চাকরির মতো নির্দিষ্ট বেতন নেই? তবুও কোটি টাকার তহবিল গড়ুন, গিগ কর্মীদের জন্য এনপিএস-এ বিনিয়োগের জাদুকরী কৌশল!

চাকরিজীবীদের মতো প্রতি মাসে নির্দিষ্ট বেতন নেই? সেই অজুহাতে কি অবসরের কথা ভেবে দুশ্চিন্তা করছেন? মনে রাখবেন, আপনার আয় অনিয়মিত হতে পারে, কিন্তু অবসর জীবনের প্রস্তুতি কোনোভাবেই অনিয়মিত হওয়া উচিত নয়। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সার, পরামর্শক, ডেলিভারি পার্টনার বা ক্যাব চালকদের জন্য ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম বা এনপিএস (NPS) অবসরকালীন তহবিল গড়ার এক দারুণ সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গিগ কর্মীদের আয়ের কোনো নির্দিষ্ট ছক না থাকলেও এনপিএস-এর মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা সম্ভব। যেহেতু এই স্কিমে প্রতি মাসে বাধ্যতামূলকভাবে একই পরিমাণ টাকা জমা দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তাই কর্মীরা তাদের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আয় অনুযায়ী বিনিয়োগের কৌশল এসবিআই পেনশন ফান্ডস-এর এমডি এবং সিইও প্রণয় রঞ্জন দ্বিবেদী এবং অ্যাক্সিস পেনশন ফান্ড-এর এমডি ও সিইও সুমিত শুক্লা একমত যে, আয়ের প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে সঞ্চয়ের পরিমাণ ঠিক করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। সুমিত শুক্লার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে আয়ের ৫-১০ শতাংশ অবসরের জন্য আলাদা করে রাখার লক্ষ্য নেওয়া যেতে পারে। পরবর্তীতে আয় বাড়লে এই অবদান ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। অর্থাৎ, কোনো মাসে হাতে বেশি টাকা এলে সেই মাসে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে পরের মাসে কম আয়ের চাপ সামলানো যায়।
দেরি করলেই বড় ক্ষতি অনেকেই আয় স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায় সঞ্চয় শুরু করতে দেরি করে ফেলেন। বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটিই সবচেয়ে বড় ভুল। চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা পেতে হলে বিনিয়োগ যত আগে শুরু করবেন, লাভ তত বেশি হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ২৫ বছর বয়স থেকে মাসে মাত্র ১,০০০ টাকা করে এনপিএস-এ জমা করা হয়, তবে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত বিনিয়োগে ২৩ লক্ষ টাকার তহবিল তৈরি হতে পারে। কিন্তু এই বিনিয়োগ শুরু করতে দেরি করে ৩৫ বছর বয়স হলে, সেই একই পরিমাণ টাকা থেকে রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
ঝুঁকি ও তরুণ বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ তরুণ বিনিয়োগকারীরা, যাদের অবসর গ্রহণের সময় এখনও অনেকটা দূরে, তারা চাইলে এনপিএস-এর ‘অ্যাক্টিভ চয়েস’ বেছে নিয়ে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ করতে পারেন। তবে ঝুঁকির পরিমাণ নির্ভর করবে ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর। যদি আয়ের স্থিতিশীলতা কম থাকে বা ঋণের দায় থাকে, তবে ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা বুঝে সেই অনুযায়ী ইক্যুইটি ও বন্ডের মিশ্রণ বেছে নিতে হবে।
সবশেষে বিশেষজ্ঞদের মূলমন্ত্র একটাই—আপনার আয় যে মাসের যতটা বেশিই হোক না কেন, সঞ্চয়ের অভ্যাসটি পুরোপুরি বন্ধ করবেন না। অনিয়মিত আয়কে বাধা মনে না করে, নিজের সুবিধামতো এনপিএস অ্যাকাউন্টে টাকা জমানোর অভ্যাস বজায় রাখলে, শেষ বয়সে একটি মোটা অঙ্কের তহবিল নিশ্চিত করা সম্ভব।