হাওড়ায় নিকাশি বিভ্রাট: বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন স্টেশন ও রাস্তা, যন্ত্রণার স্থায়ী সমাধানে রেল-পুরসভার মেগা ব্লু-প্রিন্ট

বৃষ্টি নামলেই হাওড়া শহর এবং সংলগ্ন রেল চত্বরে জল জমার দীর্ঘদিনের সমস্যা থেকে যাত্রীদের মুক্তি দিতে এবার কোমর বেঁধে আসরে নামল পূর্ব রেল এবং হাওড়া পৌরসভা। এতদিন রেল ও পৌর কর্তৃপক্ষ আলাদা আলাদাভাবে এই সমস্যা মোকাবিলার চেষ্টা করলেও, এবার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দুই দফতরই একটি যৌথ এবং বৃহত্তর জলনিকাশি পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করেছে।
বুধবার হাওড়া স্টেশনে পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন এবং হাওড়া পৌরসভার উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাওড়ার ডিআরএম বিশাল কপূর, পৌর কমিশনার তেজস্বী রানা, রেলের সিনিয়র ডিইএন শৈলেশ এবং পৌরসভার পরামর্শদাতা অজয় সিংহসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে উঠে এসেছে যে, হাওড়া স্টেশনে জল জমার মূল সমস্যা শুধু রেল চত্বরের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পার্শ্ববর্তী পৌর এলাকার বৃষ্টির জলও বিভিন্ন ত্রুটিপূর্ণ নিকাশি পথ ও কালভার্টের মাধ্যমে রেল চত্বরে ঢুকে পড়ে। কোথাও নালার মুখ বন্ধ থাকায়, আবার কোথাও নিকাশি সংযোগের অভাবে জল বের হতে পারে না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রেল ও পৌর এলাকাকে আলাদা না দেখে, সমগ্র অঞ্চলের জলের গতিপথকে একক পরিকল্পনার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জলপ্রবাহের নিখুঁত চিত্র পেতে প্রয়োজন হলে রেল এলাকা ছাড়িয়ে হুগলি নদী পর্যন্ত নিকাশি পথ অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে মৈনাকপাড়া ও গোলাবাড়ি পাম্পিং স্টেশনের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অতিরিক্ত বা নতুন পাম্প বসানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাম্পগুলির উপর নজরদারি রাখতে পূর্ব রেল ইতিমধ্যে স্বয়ংক্রিয় অনলাইন ব্যবস্থা চালু করেছে, যা প্রবল বৃষ্টির সময়ে জলস্তর বৃদ্ধি বা পাম্প বিকল হওয়ার মতো পরিস্থিতি দ্রুত চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে।
শুধু হাওড়া স্টেশন চত্বরই নয়, রানি ঝিল, বামনগাছি, লিলুয়া, বালি, ডবসন রোড, চার্চ রোড, দশরথ ঘোষ লেন, চাঁদমারি ব্রিজ এবং টিকিয়াপাড়া এলাকার নিকাশি সমস্যাও এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নালার মুখে জমে থাকা আবর্জনা এবং লুকানো বাধা চিহ্নিত করতে ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে শহরের বহু পুরনো নিকাশি পরিকাঠামো, ঘন জনবসতি এবং দ্রুত নগরায়ণের চাপে এই মহাপরিকল্পনা কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটাই এখন দেখার আসল চ্যালেঞ্জ।