রক্ত-প্লাজমা থাকলে রোগীকে ফেরানো যাবে না! ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির অনিয়ম রুখতে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের

বিভিন্ন জায়গায় অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করে তোলার মহৎ উদ্দেশ্যে নিয়মিত রক্তদান শিবির আয়োজিত হলেও, সম্প্রতি সেই দানের রক্তই ভিন রাজ্যে পাচার হয়ে যাওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। উপহারের লোভ দেখিয়ে বা নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্লাড ব্যাঙ্কের রক্ত বেআইনিভাবে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা রোধ করতে এবং সার্বিক পরিষেবা আরও উন্নত করতে এবার কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের সমস্ত সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ককে এই মর্মে একটি কড়া নির্দেশিকা পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন।
हालেই পাড়ায় পাড়ায় রক্তদান শিবির আয়োজনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে প্রায় ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল এবং তাদের ভুল শুধরে নেওয়ার জন্য সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের মতে, ব্লাড ব্যাঙ্কের সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও জনস্বার্থ জড়িত রয়েছে। সামনেই উৎসবের মরশুম থাকায় সরকার আপাতত অবস্থান কিছুটা শিথিল রাখলেও, পরিষেবায় স্বচ্ছতা আনতে একগুচ্ছ কঠোর শর্ত আরোপ করেছে।
স্বাস্থ্য ভবনের পাঠানো নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাঙ্কে পর্যাপ্ত রক্ত বা প্লাজমার জোগান থাকলে কোনো রোগী বা তাঁর পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। যদি কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপের রক্তের ঘাটতি থাকে, তবে নিকটবর্তী অন্য কোনো ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে তা জোগাড় করে দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের চিকিৎসা ও পরিষেবা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ জোর দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, রোগী বা তাঁদের পরিবারের সঙ্গে হাসপাতাল চত্বরে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার বা অসৌজন্যমূলক আচরণ বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
রক্ত ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজ্যের হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়েও এবার কড়া নজর দিচ্ছে প্রশাসন। সম্প্রতি বিভিন্ন হাসপাতালে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ‘ফায়ার অডিট’ (Fire Audit)-এর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সমস্ত হাসপাতালকে দ্রুত ফায়ার অডিট সম্পন্ন করে আগামী ত্রিশ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য দপ্তরে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং ব্লাড ব্যাঙ্কের পরিসেবাকে আরও সুদৃঢ় করতেই সরকারের এই মেগা পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।