দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স! রাজ্যে এক ধাক্কায় তৈরি হচ্ছে নতুন ১৪৫টি পদ, নবান্নের মেগা সিদ্ধান্তে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

রাজ্যের প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির শেকড় আলগা করতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়াকে গতিশীল ও নিশ্ছিদ্র করতে ‘Commission on Institutional Corruption’ বা ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি সংক্রান্ত কমিশন’-কে আরও শক্তিশালী করার এক সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নবান্নে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
দুর্নীতি দমন ও নারী নিরাপত্তায় জোড়া কমিশনকে শক্তি জোগানোর উদ্যোগ
প্রশাসনের অন্দরে দুর্নীতির অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা এবং তদন্তের পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করতে ওই কমিশনের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৭৭টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের মহিলাদের ওপর নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও সুরক্ষার দিকটি সুনিশ্চিত করতে ‘West Bengal State Commission on Atrocities Against Women’-এর পরিকাঠামোও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই মহিলা কমিশনটির জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও ৬৮টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সবমিলিয়ে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কমিশনকে শক্তিশালী করতে রাজ্যজুড়ে মোট ১৪৫টি নতুন পদ তৈরির বড়সড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন।
তারাপীঠ থেকে মির্জা গালিব স্ট্রিট: হোটেল অগ্নিকাণ্ড নিয়ে কড়া বার্তা
এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে শুধু দুর্নীতি দমন বা কমিশন গঠনই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে পর পর ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়েও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পর্যালোচনার পাশাপাশি, সম্প্রতি তারাপীঠ এবং কলকাতার খাস কলকাতায় মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দমকল মন্ত্রীর কাছ থেকে তলব করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, জেলা থেকে শুরু করে মেট্রোপলিটন এলাকার এই সমস্ত হোটেলগুলিতে আইন ও ফায়ার সেফটি বা অগ্নিসুরক্ষা বিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। কোথাও প্রশাসনিক অনুমতির ক্ষেত্রে গাফিলতি মিলেছে, আবার কোথাও হোটেল মালিকরা কোনো নিয়মেরই তোয়াক্কা করেননি।
নবান্নের বৈঠকে এই প্রসঙ্গেই কড়া অবস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান যে, এই ধরনের অনৈতিক ঘটনায় ছাড় দেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান যে হোটেলগুলিকে দেওয়া এই সমস্ত এনওসি (NOC) বা ছাড়পত্রগুলি মূলত পূর্ববর্তী সরকারের আমলের। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT) গঠন করা হয়েছে এবং তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, ওই নির্দিষ্ট অঞ্চল তথা মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকার অন্যান্য হোটেলগুলির বিরুদ্ধেও অগ্নিসুরক্ষা বিধি না মানার যে অভিযোগ রয়েছে, তার জন্যও বাধ্যতামূলক ফায়ার অডিট (Fire Audit) করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।