উৎসবের আগেই মুখে তেতো ভাব! মাত্র ১৮ দিনে ১৮ টাকা বাড়ল চিনির দাম, চিন্তায় সাধারণ মানুষ

আসন্ন উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষের আনন্দ ম্লান করে দিতে পারে চিনির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি। মধ্যপ্রদেশের বাজারে চিনির দামে এক নাটকীয় ও রেকর্ড বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বিগত মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনির দাম প্রায় ১৮ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে ভোপালের পাইকারি বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬১ টাকা দরে। অতীতে চিনির দামে এমন তীব্র উল্লম্ফন সচরাচর দেখা যায়নি বলে দাবি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে কোন কারণগুলি?
চিনির এই রেকর্ড দাম বৃদ্ধির পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা ও ব্যবসায়ীরা:
-
সরকারের মজুত নীতি: ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে চিনির মজুতের যে উচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে, তার ফলেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। তাদের দাবি, এই মজুতের সীমা কমানো হলে বাজারে চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে এবং দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
-
ইথানল উৎপাদন: চিনির দাম হু হু করে বাড়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হলো ইথানল উৎপাদনে আখের ব্যাপক ব্যবহার। চিনি উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত আখ পাওয়ার বদলে তার একটি বড় অংশ ইথানল তৈরিতে ব্যবহার করায় সামগ্রিক চিনি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগান কমে যাওয়ায় তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খুচরা ও পাইকারি বাজারে।
উৎসবের বাজারে কি আরও মহার্ঘ হবে মিষ্টি?
সামনেই উৎসবের মরসুম। এমন সময়ে চিনির লাগামছাড়া দাম শুধু চা বা রান্নাবান্নাই নয়, বরং মিষ্টি ও অন্যান্য মিষ্টান্ন তৈরির খরচও একলাফে অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী দিনে চিনির দাম আরও বাড়তে পারে। ফলস্বরূপ, উৎসবের এই আনন্দঘন সময়ে মিষ্টি কেনা সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধরনের টান ধরাতে পারে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।