‘আমি নিজেও একজন জেন-জি!’ তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে ঠিক কী এমন বললেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী?

টিভি৯ ভারতবর্ষের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ফাইভ এডিটরস’-এ হাজির হয়ে জেন-জি প্রজন্মের ভূয়সী প্রশংসা করলেন বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত পণ্ডিত ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। খোলামেলা আড্ডায় তিনি দাবি করেন যে, তিনিও মনেপ্রাণে একজন জেন-জি। তবে একই সঙ্গে বলিউড অভিনেত্রী ও সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াতের সেই বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, যেখানে তিনি তরুণ প্রজন্মকে ‘জেনারেশন গাটার’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন, অত্যন্ত সংযত অথচ স্পষ্ট ভাষায় তার পাল্টা জবাব দিয়েছেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী।

কী বলেছিলেন কঙ্গনা রানাওয়াত?

এর আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদস্থলে বিক্ষোভকারীদের ফেলে যাওয়া ময়লা ও আবর্জনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন কঙ্গনা রানাওয়াত। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে তিনি তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের তীব্র আক্রমণ করে লিখেছিলেন, “এরা হলো তথাকথিত পাশ্চাত্য ধাঁচের কিছু ভারতীয় নারী, যাদের আমি ‘জেনারেশন গাটার’ বলি। এদের মধ্যে কয়েকজনের এই ব্যবস্থাকে দেওয়ার মতো কিছুই নেই। তারা পড়াশোনায় ভালো নয়। কিন্তু তারা এতটাই সস্তা আর দুর্নীতিগ্রস্ত যে, গৃহিণীও হতে পারে না।” কঙ্গনার এই মন্তব্য ঘেষে দেশজুড়ে তখন ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

কঙ্গনার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কী বললেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী?

অনুষ্ঠানে কঙ্গনা রানাওয়াতের নাম সরাসরি না নিলেও তাঁর বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। তিনি জানান, “দেখুন, তিনি একজন রাজনীতিবিদ, তাই আমরা কোনো রাজনীতিবিদকে নিয়ে মন্তব্য করতে পারি না। তবে আমরা এটুকু বলতে পারি যে সব আঙুল একরকম হয় না। সবাই ওরকম নয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো অশালীন আচরণ করেছে, কিন্তু সবাই তো এক ছিল না। এই দেশের প্রত্যেক যুবক যদি তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কথা না বলে, তবে আর কে বলবে? দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব তো তরুণদের কাঁধেই বর্তায়। কিছু লোক ভুল করলে তাদের চিহ্নিত করা উচিত, কিন্তু পুরো প্রজন্মকে কাঠগড়ায় তোলা ঠিক নয়।”

জেন-জি প্রজন্মকে নিয়ে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ইতিবাচক বার্তা

কঙ্গনার সমালোচনার জবাব দেওয়ার পাশাপাশি জেন-জি প্রজন্মের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। নিজের জন্মসালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের জন্ম ১৯৯৬ সালে। এর ঠিক এক বছর পর থেকেই জেন-জি প্রজন্মের শুরু। তাই এই প্রজন্মকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে পেরে আমি আনন্দিত। আমাদের বর্তমান যুবসমাজ অত্যন্ত কর্মঠ, বুদ্ধিমান এবং তাদের কাজ করার পদ্ধতিও সম্পূর্ণ আলাদা। নিজেদের অধিকার আদায় করার মতো উদ্যম ও আবেগ তাদের রয়েছে। এই দেশটা যুবকদের দেশ। ১৯৪৭ সালে এই দেশের যুবকেরাই আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল, দেশের সীমানা রক্ষা করছে এবং এই দেশের ভবিষ্যৎও তাদের হাত ধরেই রচিত হবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *