পেয়ারার লোভ দেখিয়ে আখের ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও খুন! পুণের এই নারকীয় ঘটনায় তোলপাড় দেশ

মহারাষ্ট্রের পুণেতে এক ৯ বছরের নাবালিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে আখের ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন ও পরে নির্মমভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল। মঙ্গলবার বিকেলে পুণের জুন্নার তহসিলের একটি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় অভিযুক্ত ২৫ বছরের এক প্রতিবেশীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই জঘন্য অপরাধের জেরে গোটা এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে শিশুটি নিজের বাড়িতে বসে টিভি দেখছিল। সেই সময় অভিযুক্ত প্রতিবেশী যুবক সেখানে গিয়ে তাকে পেয়ারা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে গ্রামেরই একটি আখের ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালানো হয় এবং পরবর্তীতে তাকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এদিকে দীর্ঘক্ষণ ধরে মেয়েটি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা চারদিকে খোঁজ শুরু করেন। কোথাও তার সন্ধান না মেলায় অবশেষে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের তৎপরতা
অভিযোগ পাওয়ার পরেই তৎপর হয় পুণে গ্রামীণ পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে যে, নিখোঁজ হওয়ার আগে ওই নাবালিকা অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে ছিল। প্রাপ্ত প্রমাণ এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত সন্দেহভাজন ওই দিনমজুর যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জেরার মুখেই অভিযুক্ত নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে নেয় এবং পুলিশকে অপরাধের ঘটনাস্থল আখের ক্ষেতটি দেখিয়ে দেয়। পুলিশ সেখান থেকেই নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
পুণের গ্রামীণ পুলিশ সুপার (এসপি) সন্দীপ সিং গিল জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ও নির্যাতিতা একই পাড়ার বাসিন্দা হওয়ায় একে অপরকে চিনত। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের সাহায্য নিয়ে দ্রুত অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছেন মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার। ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করে তিনি পুলিশকে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, দোষী যুবকের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়ে মামলাটি যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে বিচার করা হয়, সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছে অনুরোধ জানাবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। বর্তমানে পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।