মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে বড় পদক্ষেপ ভগবন্ত মানের! শুরু হচ্ছে ‘খেদান ওয়াতান পাঞ্জাব দিয়াঁ’

পাঞ্জাবের যুবসমাজকে মাদকাসক্তির অন্ধকার পথ থেকে ফিরিয়ে খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে মরিয়া সে রাজ্যের সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করলেন ‘খেদান ওয়াতান পাঞ্জাব দিয়াঁ-২০২৬’-এর এক বিশাল কর্মযজ্ঞের পরিকল্পনা। ক্রীড়াসংস্কৃতির প্রসার এবং তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
১০ লক্ষ ক্রীড়াবিদকে নিয়ে বড় লক্ষ্য
পাঞ্জাব সরকারের এই উদ্যোগ এই বছর আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজিত হতে চলেছে। রাজ্যের ২৩টি জেলা জুড়ে ১২ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বাথিন্দায় জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হবে এই ক্রীড়া মহোৎসব। সরকার এ বছর অন্তত ১০ লক্ষ ক্রীড়াবিদকে এই প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
কী কী বিশেষত্ব থাকছে এবারের আসরে?
এবারের আসরে ৩৮টি আলাদা আলাদা ক্রীড়া ইভেন্ট রাখা হয়েছে। এখানে ১৪ বছর বয়সীদের যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনই ৭০ বছরের বেশি বয়স্করাও অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এবারের গেমসে প্রথমবারের মতো ‘টেনিস বল ক্রিকেট’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষভাবে সক্ষম ক্রীড়াবিদদের (প্যারা-অ্যাথলেট) জন্য অ্যাথলেটিক্স, পাওয়ারলিফটিং, ব্যাডমিন্টন এবং হুইলচেয়ার বাস্কেটবলের মতো প্রতিযোগিতা রাখা হয়েছে।
বিনামূল্যে নিবন্ধনের সুযোগ
এই ক্রীড়া মহোৎসবে অংশগ্রহণের জন্য কোনো রকম ফি দিতে হবে না। খেলোয়াড়রা পাঞ্জাব সরকারের ক্রীড়া বিভাগের অফিসিয়াল পোর্টাল থেকে অথবা কিউআর কোড স্ক্যান করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। আগামী ২৯ নভেম্বর পাতিয়ালায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আসরের পর্দা নামবে।
ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও পুরস্কার
পাঞ্জাব সরকার শুধু খেলার আয়োজনই করছে না, বরং খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার গড়ার পথেও বড় ভূমিকা নিচ্ছে। বিগত সাড়ে চার বছরে ৪০,৪১৫ জন ক্রীড়াবিদকে সরকার মোট ১৩৫ কোটি টাকারও বেশি নগদ পুরস্কার প্রদান করেছে। আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির জন্য অলিম্পিক অ্যাথলেটদের ১৫ লক্ষ টাকা এবং এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতির জন্য ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ বছর ৮৫ জন ক্রীড়াবিদকে ‘মহারাজা রণজিৎ সিং পুরস্কার’ এবং ১১ জন শীর্ষ খেলোয়াড়কে সরাসরি পিসিএস/ডিএসপি পর্যায়ে সরকারি চাকরি দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।