পাঁচ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চরম বিপাকে সাধারণ মানুষ! রিকভারি এজেন্টদের অত্যাচারে কীভাবে ঘনাচ্ছে মানসিক বিপর্যয়?

পাঁচটি আলাদা ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৮.৩ লক্ষ টাকা। বিক্রমের মতো একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে একসঙ্গে এতগুলি কিস্তি বা ইএমআই সামলানো ক্রমেই অসম্ভব হয়ে উঠছিল। কিন্তু আসল দুর্ভোগ শুরু হয় যখন একে একে কিস্তি খেলাপি হতে শুরু করে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফোন, একের পর এক ঋণদাতার চাপ এবং একটানা হুমকি—পরিস্থিতি খুব দ্রুত এক চরম মানসিক যন্ত্রণায় পরিণত হয়।

ঋণের জালে আটকে পড়ার বাস্তব চিত্র
বিক্রমের এই অভিজ্ঞতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একটি ডেট-রেজোলিউশন সংস্থার তথ্যে উঠে এসেছে যে, বহু সাধারণ ঋণগ্রহীতা আজ ঠিক একই ধরনের ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। চাকরি হারানো, বেতন কমে যাওয়া বা ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির কারণে মানুষ যখন নিয়মিত কিস্তি শোধ করতে ব্যর্থ হন, তখন রিকভারি এজেন্টদের তৎপরতা প্রায়শই সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠেছে, দিনে শত শত বার ফোন করা, কর্মক্ষেত্রে বা আত্মীয়দের কাছে ফোন করে অপমান করা, এমনকি পরিবার ও প্রতিবেশীদের সামনে চিৎকার-চেঁচামেচি করে প্রকাশ্যে ভয় দেখানোর মতো ঘটনা ঘটছে।

আরবিআই-এর নির্দেশিকা বনাম রূঢ় বাস্তবতা
অথচ ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)-এর অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে যে, ঋণ আদায়ের নামে কোনো গ্রাহককে শারীরিক বা মানসিক হেনস্থা করা যাবে না। অসময়ে ফোন করা বা তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত মানুষগুলো প্রায় সময়ই জানেন না কীভাবে এই অপমানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে বা আইনিভাবে কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, গৃহস্থালির ঋণ তখনই মানুষের জন্য মরণফাঁদ হয়ে ওঠে যখন আয়ের বড় অংশ চলে যায় শুধু ঋণের কিস্তি মেটাতে। বিপদের সময় নতুন ঋণ বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পুরনো ঋণ শোধ করতে গিয়ে মানুষ অজান্তেই আরও গভীর চোরাবালিতে তলিয়ে যায়। তবে বিক্রম বা সঞ্জয়ের মতো কেউ কেউ বিশেষজ্ঞ সংস্থা বা আইনি সহায়তার মাধ্যমে সঠিক উপায়ে ঋণ নিষ্পত্তি করে কিছুটা স্বস্তি পেলেও, সার্বিক এই ঋণ সংস্কৃতি ও রিকভারি জাঁতাকল নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *