ছাত্র আন্দোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে চরম ব্যাকফুটে বিজয়ের সরকার! তীব্র চাপে পিছু হঠল তামিলনাড়ুর টিভিকে

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক আঙিনায় বড়সড় ধাক্কা। বামপন্থী দল এবং ‘তামিলনাড়ু ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পড়ুয়াদের অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে চরম অস্বস্তিতে পড়েছিল অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্রি কড়গম’ (TVK)। তবে তীব্র সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বুধবার পিছু হঠতে বাধ্য হলো বিজয় সরকার। বিতর্কিত সেই সরকারি নির্দেশিকাটি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

কী ছিল সেই বিতর্কিত নির্দেশিকা?
গত ১৪ অগস্ট তামিলনাড়ুর স্কুল শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে একটি ‘জরুরি বার্তা’ পাঠানো হয়েছিল। তাতে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সিজেপি এবং বামপন্থী দলগুলির বিক্ষোভে যাতে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ‘প্ররোচিত’ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ২০ অগস্টের মধ্যে এ বিষয়ে ‘অ্যাকশন-টেকেন রিপোর্ট’ জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে। কিন্তু নির্দেশিকাটি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় রাজ্যজুড়ে।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও শরিকি অস্বস্তি
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি বিজয়ের সরকারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জুন মাসে বিধানসভা নির্বাচনের পর ম্যাজিক ফিগার থেকে সামান্য দূরে থাকা বিজয়কে সরকার গঠনের জন্য কংগ্রেস, ভিসিকে (VCK) এবং বামেদের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। যারা বাইরে থেকে বিনাশর্তে সমর্থন দিয়েছিল, সেই বামেদের আন্দোলন রুখতে সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপে শরিকি অস্বস্তি চরমে ওঠে।

এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করে সিজেপি-র জাতীয় সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস বিজয়ের সরকারের এই পদক্ষেপকে “সম্পূর্ণরূপে অসাংবিধানিক, অযৌক্তিক ও বিবেকহীন” বলে তীব্র কটাক্ষ করেন। যদিও সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে পাশে দাঁড়িয়েছিল বিজেপি। বিজেপির নেতা বিনোজ পি সেলভম সিজেপি ও বামপন্থী সংগঠনগুলিকে “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এজেন্ট” বলে পালটা আক্রমণ করেন।

আন্দোলনের আঁচ ও নেপথ্যের কারণ
দেশজুড়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার খামতি নিয়ে ‘জেন-জি’ ও ‘জেন-আলফা’ প্রজন্মের যে আন্দোলন দানা বেঁধেছে, তাতেই ভীত হয়ে এই পদক্ষেপ করেছিল বিজয় সরকার বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা এক মাস ছাত্র আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সেই প্রতিবাদের আঁচ যেন তামিলনাড়ুর ছাত্রসমাজের মধ্যে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই কৌশল নিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু শেষমেশ বামেদের চাপে নিজেদের পাতা ফাঁদেই পা দিয়ে পিছু হঠতে হলো শাসকদলকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *