ফাঁসির দড়িতেই কি শেষ পরিণতি? মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়ে জল্পনা তুঙ্গে!

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে ফাঁসি দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি বাতিলের আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার একটি মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আপাতত ফাঁসির মাধ্যমেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তবে এর পাশাপাশি, আসামির কষ্ট কমাতে অন্য কোনো কম বেদনাদায়ক বিকল্প পদ্ধতি খতিয়ে দেখার জন্য কেন্দ্র চাইলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলোচনা করতে পারে—এই পথ খোলা রেখেছে আদালত।
২০১৭ সালের মামলার রায়:
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। ২০১৭ সালে আইনজীবী ঋষি মালহোত্রা একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। তাঁর আর্জি ছিল, ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রাচীন পদ্ধতিটি বাতিল করে তার পরিবর্তে শিরায় ইনজেকশন (intravenous lethal injection), বৈদ্যুতিক শক বা গ্যাস চেম্বারের মতো কম কষ্টদায়ক পদ্ধতি চালু করা হোক। এছাড়া দোষীকেও নিজের পছন্দের পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল।
কেন্দ্রের পূর্ববর্তী অবস্থান:
এর আগে ২০১৮ সালে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে সাফ জানানো হয়েছিল যে, ফাঁসি দেওয়ার পদ্ধতিটি যথেষ্ট দ্রুত, সহজ এবং এর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা থাকে না। এমনকি ইনজেকশন বা ফায়ারিং স্কোয়াডের মতো বিকল্প পদ্ধতিগুলিও যে খুব একটা কম যন্ত্রণাদায়ক, তা নয়। ২০২৩ সালের মার্চ মাসেও আদালত এ বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে আরও ভালো ডেটা বা তথ্য তলব করেছিল।
যদিও বর্তমান রায়ে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, এই রায়ের অর্থ এই নয় যে কেন্দ্র কোনো বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে আইন পর্যালোচনার মাধ্যমে নতুন কোনো পথ খুঁজতে পারবে না। তবে বর্তমান নিয়মে ফাঁসির সাজা বহাল থাকছে।