রাম মন্দির অনুদান বিতর্ক! এসআইটি-র চূড়ান্ত প্রতিবেদনে চম্পত রায় ও অনিল মিশ্র নিয়ে এল বড় আপডেট!

রাম মন্দিরের নৈবেদ্য ও অনুদান চুরির ঘটনায় গঠিত প্রথম বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি ট্রাস্টের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনে রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় এবং প্রাক্তন সদস্য অনিল মিশ্রকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে প্রাথমিক প্রতিবেদনেও চম্পত রায়কে নির্দোষ বলা হয়েছিল। যদিও প্রাথমিক তদন্তে অনুদান গণনার ক্ষেত্রে কিছু অবহেলার জন্য অনিল মিশ্রের নাম সামনে এসেছিল, তবে তাঁকে সরাসরি কোনো অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের নামের তালিকা
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এসআইটি-র এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনেও অনিল মিশ্রকে অভিযুক্ত হিসেবে কোনো স্থান দেওয়া হয়নি। বরং চম্পত রায় ও অনিল মিশ্র দুজনেই সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এবং অভিযুক্তদের চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের নাম রাখা হয়নি। এই মামলায় ইতিপূর্বে যে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কেবল তাঁদের নামই এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রশাসনিক ত্রুটি ও নজরদারিতে ঘাটতির কথা স্বীকার
প্রতিবেদনে অনুদান গণনা এবং অর্থ ব্যবস্থাপনার সময় ব্যাংক ও ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে কিছু প্রশাসনিক দুর্বলতা ও ত্রুটির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পদত্যাগ ও দ্বিতীয় এসআইটি তদন্ত
মন্দিরের অনুদানে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর নিরপেক্ষ তদন্ত চলাকালীন গত ২৭ জুন চম্পত রায় ও অনিল মিশ্র দুজনেই ট্রাস্টের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। প্রসঙ্গত, ট্রাস্টের নিজস্ব অনুরোধে এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরাসরি নির্দেশে চলতি বছরের ১৩ জুন প্রথম এই বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করা হয়েছিল।
লখনউয়ের বিভাগীয় কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পান্তের নেতৃত্বে গঠিত এই এসআইটি দলে লখনউ রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক কিরণ এস. এবং বিশেষ সচিব (অর্থ) নীল রতন কুমার সদস্য হিসেবে ছিলেন। দলটি গত ২৩ জুন সরকারের কাছে তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল এবং এর ভিত্তিতে ২৫ জুন অযোধ্যায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয় আরেকটি বিশেষ তদন্তকারী দল পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।