শেয়ার বাজারে এসেই বাম্পার প্রফিট! মিল্কি মিস্টের আইপিওতে এক ঝটকায় পকেট ভারী হলো বিনিয়োগকারীদের

শেয়ার বাজারে দুর্দান্ত অভিষেক ঘটাল জনপ্রিয় ডেইরি ব্র্যান্ড মিল্কি মিস্ট ডেইরি ফুডস (Milky Mist Dairy Foods)। মঙ্গলবার এনএসই এবং বিএসই—উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেই নির্ধারিত ইস্যু মূল্যের চেয়ে বড় প্রিমিয়ামে তালিকাভুক্ত হয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। আইপিও-তে শেয়ারের দাম ১৪০ টাকা নির্ধারিত হলেও, বাজারে আত্মপ্রকাশের দিনই তা এনএসই ও বিএসইতে ১৬৫ টাকা দরে তালিকাভুক্ত হয়, যা প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। ট্রেডিং সেশন চলাকালীন কোম্পানির শেয়ারের দাম একসময়ে সর্বোচ্চ ১৮১.৪৫ টাকায় পৌঁছায়, যা ইস্যু মূল্যের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। বাজারের সামগ্রিক পতনের মাঝেও এই জোরালো আত্মপ্রকাশ বিনিয়োগকারীদের মনে দারুণ উৎসাহ জুগিয়েছে।

আইপিও সাবস্ক্রিপশন এবং বিনিয়োগকারীদের লাভ
গত ১১ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত খোলা এই ১,৫৫৩ কোটি টাকার পাবলিক ইস্যুটিতে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া মিলেছিল। সার্বিকভাবে এই আইপিও ৫৬.১২ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছিল। এর মধ্যে খুচরা বিনিয়োগকারীদের অংশ ৮.৪১ গুণ এবং নন-ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর (NIIs) বিভাগটি ৩৪.৯১ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়। তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখায় কোয়ালিফাইড ইনস্টিটিউশনাল বায়ার্স (QIBs) বিভাগটি, যা প্রায় ১৫৫.৮৩ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছিল। এর আগে অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ৪৬৫.২৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল কোম্পানিটি।

বাজার বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, এই আইপিও থেকে বিনিয়োগকারীরা বেশ ভালো অংকের মুনাফা ঘরে তুলেছেন। প্রতিটি লটে ১০৭টি শেয়ার থাকায়, ১৪০ টাকা ইস্যু মূল্যের সাপেক্ষে এক লট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভালোোরকম লাভ হয়েছে। ট্রেডিং চলাকালীন শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ১৮১.৪৫ টাকায় পৌঁছানোয় বিনিয়োগকারীরা প্রতি লটে ৪,৪ টাকারও বেশি (প্রায় ৪,৪৩৫ টাকা) নিট লাভ অর্জন করেছেন। সেনসেক্সের পতন সত্ত্বেও এই মারকাটারি রিটার্ন বিনিয়োগকারীদের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছে।

আইপিও থেকে প্রাপ্ত অর্থের ব্যবহার
মিল্কি মিস্ট ডেইরি ফুডস এই আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থ মূলত কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি মজবুত করা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের কাজে ব্যবহার করবে। এর প্রধান দিকগুলো হলো:

ঋণ পরিশোধ: সংগৃহীত ১,১২১.৪১ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ৪৯৬.৮৬ কোটি টাকা কোম্পানির বকেয়া ঋণ পরিশোধে ব্যয় করা হবে।

উৎপাদন ক্ষমতার সম্প্রসারণ: পেরুনদুরাই উৎপাদন কেন্দ্রের আধুনিকীকরণ ও পরিকাঠামো বাড়াতে ৪৬৯.২৪ কোটি টাকার মূলধনী ব্যয় ধরা হয়েছে।

বাজার ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন: বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও পোক্ত করতে এবং ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক বাড়াতে ভিজি কুলার, আইসক্রিম ও চকলেট ফ্রিজার স্থাপনে ১৫৫.৩১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।

শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি
চলতি ২০২৬ অর্থবর্ষে নিজেদের আর্থিক পারফরম্যান্সে দুর্দান্ত উন্নতি দেখিয়েছে মিল্কি মিস্ট। গত অর্থবর্ষের ২,৩৫৪.৭৯ কোটি টাকার তুলনায় কোম্পানির মোট রাজস্ব ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩,১৪৫.০১ কোটিতে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, কোম্পানিটির কর পরবর্তী মুনাফা (PAT) বা নিট লাভ আগের বছরের ৪৬.০৭ কোটি টাকা থেকে এক লাফে ১৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২৭.০১ কোটিতে গিয়ে ঠেকেছে। ঋণ কমানো এবং উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির এই সুদূরপ্রসারী কৌশল ভবিষ্যতে কোম্পানিটিকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *