সরকারি হাসপাতালে বেড নেই? এবার বড় ঘোষণায় সোজা বেসরকারি হাসপাতালে নিখরচায় চিকিৎসা!

এবার থেকে সরকারি হাসপাতালে বেডের অভাবে আর রোগীদের হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে না। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারি হাসপাতালের তরফেই অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীকে সরাসরি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং সেখানেই সম্পূর্ণ নিঃশুল্কভাবে চিকিৎসা পাবেন রোগী। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই বড় ঘোষণা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। একই সঙ্গে এদিন এসএসকেএম (SSKM)-এর সঙ্গে কেপিসি (KPC) হাসপাতাল যুক্ত হওয়ার কথাও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
কীভাবে মিলবে এই পরিষেবা?
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে নাগরিকদের জন্য প্রায় আড়াই হাজার বেড সংরক্ষিত করা হয়েছে, যেগুলিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা মিলবে। শহর থেকে শুরু করে শহরতলি এবং বাংলার গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত আজ থেকেই এই পরিষেবা কার্যকর করা হয়েছে।
গোটা প্রক্রিয়াটি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে:
কোনো রোগী চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে গিয়ে যদি দেখেন বেড বা ভেন্টিলেটর খালি নেই, তবে তাঁকে আর ফিরে যেতে হবে না।
তৎক্ষণাৎ বিষয়টি স্থানীয় কন্ট্রোল রুম মারফত স্বাস্থ্য দফতরের মূল কন্ট্রোল রুমে জানানো হবে।
কন্ট্রোল রুম খতিয়ে দেখবে কোন বেসরকারি হাসপাতালে বেড খালি রয়েছে এবং সেখান থেকেই ফোন করে বেড বুকিং নিশ্চিত করা হবে।
এরপর সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
কোন কোন হাসপাতাল যুক্ত হচ্ছে?
প্রাথমিক পর্যায়ে এসএসকেএম হাসপাতালের সঙ্গে কেপিসি হাসপাতাল যুক্ত হওয়ার পর, খুব শীঘ্রই মেডিকেল কলেজ, এনআরএস (NRS), আরজি কর, চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল এবং সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলিকে শহরের বিভিন্ন নামী বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কিছু বেসরকারি হাসপাতাল এই মুহূর্তে এর আওতার বাইরে থাকলেও খুব শীঘ্রই তাদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হবে।
সরকারের এই নতুন উদ্যোগে সরকারি হাসপাতালের বেড সঙ্কটের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পুরো ব্যবস্থাটি পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে সামান্য সময় লাগবে এবং কোথাও কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুত সংশোধন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।