“ছবি ছাড়া কীভাবে নির্বাচন?” মার্কিন প্রশাসনকে প্রশ্ন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের, প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প

আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় (America Election) আরও কড়াকড়ি আনতে এবার ভারতের নির্বাচন পদ্ধতিকে উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এতদিন মার্কিন মুলুকে ভোটদানের সময় ছবি-সহ কোনো বৈধ পরিচয়পত্র দেখানোর কড়া নিয়ম না থাকায় সেখানে জালিয়াতির সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। আর এই প্রসঙ্গেই ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) একটি প্রশ্নকে সামনে এনে মার্কিন কংগ্রেসে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ (SAVE America Act) বা ‘সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবেলিটি অ্যাক্ট’ পাশ করার দাবি আরও জোরালো করলেন তিনি।
মার্কিন প্রশাসনে ভারতের ভোট পদ্ধতির জয়জয়কার
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) একটি পোস্টে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প লেখেন, “এই মাসের শুরুতে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনকে এক গুরুত্ত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছিলেন— ‘বৈধ ছবি-সহ পরিচয়পত্র ছাড়া কীভাবে আপনারা আমেরিকায় নির্বাচন করতে পারেন?’”
ভারতের সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের বিশাল কর্মযজ্ঞ ও স্বচ্ছতার ভূয়সী প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, “ভারতের শেষ নির্বাচনে প্রায় ৬৪ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছেন। সেখানে ১ শতাংশেরও কম মানুষ ডাকযোগে (পোস্টাল ব্যালট) ভোট দিয়েছেন এবং প্রত্যেক ভোটারের কাছেই একটি বৈধ ছবি-সহ পরিচয়পত্র (EPIC) থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। আর তাই দেরি না করে আমাদের এখনই ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাশ করতে হবে।” ট্রাম্পের এই সুরেই সুর মিলিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও (Sergio Gor)। এক্স হ্যান্ডেলে (প্লাটফর্ম X) তিনি জানান, ভারতের মতো দেশে কোটি কোটি ভোটারকে যেভাবে পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোট দিতে হয়, মার্কিন মুলুকেও সেই স্বচ্ছতা আনা অত্যন্ত জরুরি।
কী এই ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’?
আমেরিকার নির্বাচনে যেকোনো ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে এবং শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিকরাই যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন তা সুনিশ্চিত করতেই এই বিল আনা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রস্তাবিত আইনে ফেডারেল নির্বাচনে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং বৈধ ছবি-সহ পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকযোগে বা মেল-ইন ব্যালটের (Mail-in Ballots) ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের দাবি, ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আমেরিকা এখনও বিশ্বের বহু দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ভারত এবং ব্রাজিলের মতো দেশগুলিতে যেখানে ভোটার আইডি সরাসরি বায়োমেট্রিক ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত, সেখানে আমেরিকা মূলত নাগরিকত্বের স্বঘোষণার (Self-attestation) ওপর নির্ভর করে। যদিও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই বিল পেশ হওয়ার পর থেকেই ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক মতভেদ বজায় রয়েছে, তবে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতাকে যে ফের একবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিল, তা বলাই বাহুল্য।