‘১০-এ ৯ না পেলে ক্ষমা চেয়ে নেব!’ ১০০ দিন পেরোতেই বাংলার মানুষের কাছে বিরাট চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

পরিবর্তনের সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ। এই বিশেষ মাইলস্টোনে দাঁড়িয়ে পূর্বতন বাম এবং তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি বাংলার মানুষের উদ্দেশ্যে এক বিরাট বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত দিনের জমানার সঙ্গে বর্তমান সরকারের পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই সরকার কোনও দলের নয়, সম্পূর্ণভাবে জনগণের সরকার।
বাম-তৃণমূলকে কড়া আক্রমণ
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্বতন সরকারগুলিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘সিপিআইএম বলত পার্টির সরকার, গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল বলত আমার সরকার। কিন্তু আমাদের সরকার হলো জনগণের সরকার, বাংলার ১১ কোটি মানুষের সরকার।’’
১০০ দিনের রিপোর্ট কার্ড
নতুন সরকারের ১০০ দিনের সাফল্য ঠিক কী? এই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী নিজের সরকারকে নিজে নম্বর দিতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘‘নিজেকে নিজে কী করে নম্বর দেব? তবে এই ক’দিনে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা, সাংবিধানিক কর্তব্য, জনকল্যাণ, কর্মসংস্থান এবং রাজ্যে বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলিতে আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। এরপর যোগ-বিয়োগ করার দায়িত্ব আপনাদের হাতে। আগামী দিনেও আমাদের সরকার শুধু মানুষের জন্যই কাজ করবে।’’
সরকারি সূত্রের দাবি, বাংলায় বিজেপি সরকারের এই ১০০ দিনে কৃষি থেকে শিল্প— সর্বত্র ‘ডাবল’ গতিতে উন্নয়ন চলছে। ঝিমিয়ে পড়া স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল ফিরেছে। পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পুলিশের ওপর ফের জনতার ভরসা ফিরছে। হিন্দু-সনাতনীদের কর্মসূচিতে আর কোনও বাধা নেই, রাজ্যে লাগামহীন তোষণের রাজনীতিও পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে। নারী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে একাধিক কড়া পদক্ষেপ।
আগামী বছরের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ
তবে এদিনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল মুখ্যমন্ত্রীর ছুঁড়ে দেওয়া একটি চ্যালেঞ্জ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, ‘‘২০২৭ সালের ৯ মে আমার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এক বছর পূর্ণ হবে। ওই দিন আমি আপনাদের সামনে পরীক্ষায় বসব, আর সেই পরীক্ষায় আপনারাই আমায় নম্বর দেবেন। আমি যদি ১০-এর মধ্যে ৯ নম্বর না পাই, তবে আপনাদের কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নেব এবং স্বীকার করব যে আমি পারলাম না। আপনারাই তখন বিচার করবেন যে বাংলার উন্নয়নের লক্ষ্যে আপনারা সঠিক লোককে বাছাই করেছেন কি না।’’
সবশেষে বাংলার মানুষের কাছে ভরসা রাখার আর্জি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিশ্বাস আর ভরসা রাখুন। আমাদের একটু সময় দিন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে মিলে আপনাদের কল্যাণের জন্য কাজ করবে।’’
উন্নয়নে দরাজ হস্ত আর প্রশাসনে কড়া শাসন— মূলত এই দুইয়ের মিশেলেই যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে, ১০০ দিনের মাথায় তা কার্যত স্পষ্ট করে দিল বর্তমান রাজ্য সরকার।