‘এক বছর পরে পরীক্ষায় বসব…’, পুরুলিয়া থেকে রাজ্যবাসীকে বড় বার্তা শুভেন্দুর

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পূর্তির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সরাসরি জনতার আদালতে নিজের কাজের বিচার চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পুরুলিয়ার মানবাজারে একটি বিশাল পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী ৯ মে আমার মুখ্যমন্ত্রিত্বের এক বছর পূর্ণ হবে। সেই দিন আমি আপনাদের সামনে পরীক্ষায় বসব। ১০-এর মধ্যে ৯ নম্বর না পেলে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনারাই বলবেন যে আপনারা সঠিক ব্যক্তি ও দলকে দায়িত্ব দিয়েছেন।”
জাপানের সংস্থা জাইকা (JICA)-র আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় ১১৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পুরুলিয়ার ৯টি ব্লকে এই মেগা পানীয় জল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুরুলিয়া পুরসভা ও পার্শ্ববর্তী ব্লকগুলোর প্রায় ৮৭,২৭১টি পরিবার প্রতিদিন জনপ্রতি ৭০ লিটার বিশুদ্ধ পানীয় জল পাবে। স্বাধীনতার আট দশক পরেও মানবাজারের বাসিন্দাদের জলের সুরাহা না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা পেলেও তা নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। সেই কারণে সাধারণ মানুষ জলের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
পুরুলিয়ার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী দিনে জেলায় বিমানবন্দর তৈরি সহ পরিকাঠামোগত ব্যাপক কাজ হবে। এছাড়া কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তপশিলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। কুড়মি বোর্ডের উন্নতির জন্য ইতিমধ্যেই ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়া আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিভার্সিটি ও একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল তৈরির কাজও দ্রুত গতিতে চলছে।
এদিন রঘুনাথপুরে অমিত মেটালিকস সংস্থার একটি লৌহ ইস্পাত কারখানারও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সংস্থার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং জঙ্গলমহলের অদক্ষ কর্মীদেরও সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে। আগামী দিনে জঙ্গলমহলের মানুষের রোজগারের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে তিনি জোর দিয়ে জানান।