ইন্দাসে চাঞ্চল্যকর খুন: শেষ দেখে ছাড়ার হুংকার! মৃত কর্মীর ছেলের সঙ্গে সরাসরি ফোনালাপে ক্ষোভ মমতার

বাঁকুড়ার ইন্দাসে এক মানবাধিকার সংগঠনের (CJP) সদস্যের বাবাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকেই শোকে পাথর হয়ে রয়েছে মৃত ব্যক্তির পরিবার। এদিকে তীব্র এই উত্তেজনার মধ্যেই নিহতের ছেলের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারকে সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই দ্রুত তৎপরতা দেখিয়ে এই ঘটনায় মোট আট জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে এত কিছুর পরেও থামছে না পরিবারের ক্ষোভ। ঠিক কী চাইছেন নিহত শেখ আবদুল মাফিকের ছেলে? কার বা কাদের দিকে সরাসরি ইঙ্গিত করছে পরিবার? আসুন জেনে নেওয়া যাক এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার নেপথ্যের আসল সত্যিটা।
ঠিক কী ঘটেছিল বাঁকুড়ার ইন্দাসে?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্দাস এলাকায় সম্প্রতি এক বর্বরোচিত হামলায় প্রাণ হারান এক সিজেপি (CJP) কর্মীর বাবা। অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়, যার জেরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের সুরক্ষার প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিনিধিরাও ছুটে যান এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
৮ জন গ্রেফতার, তবুও কেন ক্ষোভ?
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের টিম দ্রুত তদন্তে নামে এবং এখনও পর্যন্ত মোট ৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশি জেরায় ধৃতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এত দ্রুত আটটি গ্রেফতারি সত্ত্বেও পরিবারের মনে স্বস্তি ফেরেনি। নিহতের ছেলে শেখ আবদুল মাফিক ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে আরও প্রভাবশালী মাথা রয়েছে। কেবল কজন হাতুড়ে বা ভাড়াটে গুন্ডা নয়, মূল চক্রীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছে পরিবার। কার বা কাদের ইন্ধনে এই পরিকল্পিত খুন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
মুখ্যমন্ত্রীর ফোন ও পরিবারের দাবি
পরিবারের ওপর নেমে আসা এই বিপদের দিনে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিহতের ছেলেকে ফোন করে তিনি গোটা ঘটনার খোঁজখবর নেন এবং দোষীরা যাতে কঠোরতম শাস্তি পায়, সেই বিষয়ে পূর্ণ আশ্বস্ত করেন। তবে এই সান্ত্বনার পাশাপাশি পরিবারের একটাই দাবি—যতক্ষণ না মূল ষড়যন্ত্রকারীরা পুরোপুরি আইনের আওতায় আসছে এবং উপযুক্ত সাজা পাচ্ছে, ততক্ষণ তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ইন্দাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশি তদন্ত কতদূর এগোয় এবং শেষ পর্যন্ত বিচার পায় কি না পরিবার, সেটাই এখন দেখার।