আইফোনের ত্রুটি নিয়ে আদালতের বড় রায়! অ্যাপেলের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইতে জয় পেলেন ক্রেতা

নতুন আইফোন কিনে অতিরিক্ত গরম হওয়া সহ নানা সমস্যায় পড়ার পর কনজ়িউমার কমিশনের দারস্থ হয়েছিলেন এক আইনজীবী। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সেই মামলায় টেক জায়ান্ট অ্যাপেলকে বড় অঙ্কের জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিল গুরগাঁওয়ের একটি জেলা কনজ়িউমার কমিশন। ত্রুটিপূর্ণ পরিষেবার কারণে অ্যাপেলকে মোট ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে বলা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজবীর ফোগত নামের এক আইনজীবী ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা খরচ করে একটি আইফোন ১৫ কিনেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, কেনার পর থেকেই ফোনটিতে অতিরিক্ত গরম বা ওভার হিটিং, ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি এবং নেটওয়ার্কের মতো একাধিক সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। এরপর তিনি অ্যাপেলের অনুমোদিত কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করলে সেখানকার টেকনিশিয়ানরা কিছু সেটিংস পরিবর্তন করে ফোনটি ঠিক হয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন।

কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তিনি ফের সার্ভিস সেন্টারে যান। সেখান থেকে তাঁকে কাস্টমার কেয়ারের হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। রাজবীরের অভিযোগ, কাস্টমার কেয়ারের নির্দেশমতো ফোন আপডেট করা হলেও কল ড্রপ ও নেটওয়ার্কজনিত ত্রুটি ঠিক হয়নি। এমনকি স্টোরেজের সমস্যার কথা বলে তাঁকে আইক্লাউড স্টোরেজ কিনতে বাধ্য করা হয় এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রোভাইডার পরিবর্তন করারও পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও কোনো সুরাহা না মেলায় তিনি শেষ পর্যন্ত পুরো বিষয়টি জেলা কনজ়িউমার কমিশনে জানান এবং ফোনটি বদলে দেওয়া অথবা সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।

অন্যদিকে, অ্যাপেলের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়, ফোনটিতে মডিফিকেশন করা হয়েছিল এবং এর বিভিন্ন অংশে ধুলিকণা পাওয়া গেছে। সেই কারণে ফোনটি ওয়ারেন্টির আওতাভুক্ত ছিল না বলে দাবি করে সংস্থাটি।

তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কমিশনের বেঞ্চ জানায়, ক্রেতার জমা দেওয়া ট্যাক্স ইনভয়েস, ফেইলড কলের স্ক্রিনশট এবং সার্ভিস সেন্টারের জব শিট থেকে স্পষ্ট যে ত্রুটিপূর্ণ ফোনটি সারিয়ে না দিয়েই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপরই ক্রেতার পক্ষে রায় দিয়ে অ্যাপেলকে এই আর্থিক জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেয় গুরগাঁওয়ের কনজ়িউমার কমিশন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *