সাদা বোতলে কেন থাকে না বিয়ার? বাদামি ও সবুজ রঙের পিছনে রয়েছে বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস

কাচের গ্লাসে সোনালী পানীয় ঢালার দৃশ্যটি সিনেমা থেকে শুরু করে পার্টিতে অত্যন্ত পরিচিত। কিন্তু একটা বিষয় কি কখনও লক্ষ্য করেছেন, বাজারে বিক্রি হওয়া বিয়ারের বোতলগুলো সবসময় বাদামি কিংবা সবুজ রঙেরই হয়? কখনো স্বচ্ছ সাদা কাচের বোতলে বিয়ার দেখা যায় না কেন? এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক দীর্ঘ ইতিহাস, যার সূত্রপাত হয়েছিল বিশ্বযুদ্ধের সময়।
খাদ্য ও পানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ারে থাকা বিশেষ উপাদান এবং আলোর রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকেই এই অদ্ভুত নিয়ম তৈরি হয়েছে। ডেইলি হান্টের পাঠকদের জন্য রইल বিয়ারের বোতলের রঙ বদলের নেপথ্যে থাকা সেই ঐতিহাসিক কাহিনি।
১. সূর্যের আলোর মারাত্মক প্রভাব
বিয়ার তৈরির মূল উপকরণ হলো হপস (Hops), যা পানীয়টিতে এক ধরনের সুবাস ও তেতো স্বাদ আনে। কিন্তু এই হপস যখন সরাসরি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসে, তখন এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। এর ফলে বিয়ারে অদ্ভুত পচা গন্ধ এবং স্বাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। স্বচ্ছ কাচের বোতল সূর্যের আলোকে সহজেই প্রবেশ করতে দেয়, যা বিয়ারকে দ্রুত নষ্ট করে ফেলে।
২. বাদামি বোতলের ঐতিহাসিক জন্ম ও বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব
সূর্যের আলো থেকে বিয়ারকে রক্ষা করার জন্যই প্রথম বাদামি রঙের কাচের বোতলের ব্যবহার শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন স্বচ্ছ কাচের মারাত্মক সংকট দেখা দেয়, তখন ব্রুয়ারিজগুলো বাধ্য হয়ে বাদামি কাচ ব্যবহার করতে শুরু করে। দেখা যায়, এই বাদামি রঙ প্রায় সমস্ত ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মিকে আটকে দিতে সক্ষম, যা বিয়ারের স্বাদ ও মান দীর্ঘ সময় ধরে সুরক্ষিত রাখে।
৩. সবুজ বোতলের পেছনের অন্য গল্প
বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বাদামি কাচের যখন চরম আকাল দেখা দেয়, তখন ইউরোপীয় দেশগুলো সবুজ কাচের বোতল ব্যবহার করা শুরু করে। সবুজ কাচও কিছু পরিমাণে আলো আটকাতে পারে। পরবর্তীতে এই সবুজ বোতলগুলোই এক ধরনের প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের প্রতীক বা স্টাইল স্টেটমেন্টে পরিণত হয়। আজও বহু বিখ্যাত ব্র্যান্ড ঐতিহ্য বজায় রাখতে সবুজ বোতল ব্যবহার করে থাকে।
বিজ্ঞানের নীতি এবং বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসের হাত ধরেই বিয়ারের বোতলের এই সুনির্দিষ্ট রঙের ধারণা তৈরি হয়েছিল, যা আজও বিশ্বজুড়ে অপরিবর্তিত রয়েছে।