বছরের মাত্র ২৪ ঘণ্টা খোলে এই রহস্যময় মন্দির! নাগ পঞ্চমীতে উজ্জ্বলে ভক্তদের ঢল, কেন এত কৌতূহল?

নাগ পঞ্চমী ২০২৬ উপলক্ষে মধ্যপ্রদেশের উজ্জ্বলে এক বিরল ধর্মীয় দৃশ্য দেখা গেল। মহাকাল জ্যোভিলিঙ্গ মন্দির চত্বরের তৃতীয় তথা সর্বউচ্চ তলে অবস্থিত বিখ্যাত নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরটি বছরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার জন্য ভক্তদের দর্শনের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩৬৪ দিন এই মন্দিরের সিঁড়িতে তালা ঝুল থাকে। এ বছর নাগ পঞ্চমী সোমবার, ১৭ আগস্ট শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার এবং দেবাদিদেব মহাদেবের সাওয়ারির সঙ্গে একই দিনে পড়ায় এই উন্মাদনা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। মধ্যরাতের পর ত্রিকাল পূজার পরপরই মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং একটানা ২৪ ঘণ্টা ভক্তদের জন্য তা উন্মুক্ত থাকে। বিরল এই সংযোগের ফলে এ বছর প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ ভক্তের সমাগম হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা সামলাতে প্রস্তুত প্রশাসন।

কেন এই মন্দির এত অনন্য?
মহাকাল মন্দির চত্বরের ওপরের তলে অবস্থিত এই মন্দিরে রয়েছে একাদশ শতাব্দীর একটি প্রাচীন মূর্তি। যেখানে ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীকে একটি কুন্ডলী পাকানো সাপের ওপর উপবিষ্ট অবস্থায় দেখা যায়, যার ফণা তাঁদের মাথার ওপর বিস্তৃত রয়েছে। ভগবান বিষ্ণুকে শেষনাগের শয্যায় শায়িত থাকতে সচরাচর দেখা গেলেও, এই মূর্তিতে শিব ও পার্বতীর সঙ্গে বহুফণা বিশিষ্ট সর্প সিংহাসনে গণেশকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

মন্দির ঐতিহাসিক ও ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ মূর্তিটির সঙ্গে নেপালের যোগ রয়েছে এবং ঐতিহ্যগতভাবে এটি সেখান থেকেই উজ্জ্বলে নিয়ে আসা হয়েছিল। এছাড়া বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে কালসর্প দোষ থেকে মুক্তির কামনায় বহু ভক্ত এই মন্দিরে পুজো দেন, যা নাগ পঞ্চমীর দিনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

বিরল সংযোগ ও প্রশাসনের প্রস্তুতি
এবারের নাগ পঞ্চমীর দিনটি শ্রাবণের তৃতীয় সোমবারের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এর মাহাত্ম্য আরও বেড়েছে। একই দিনে মহাকালের তৃতীয় সাওয়ারি রাম ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেওয়ায় উজ্জ্বলে বিরাট জনসমাগম হয়েছে। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম সামলাতে প্রশাসন পানীয় জলের ব্যবস্থা, পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম এবং সাওয়ারি রুটে অতিরিক্ত সিসি ক্যামেরা ইনস্টল করার মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরের এই ২৪ ঘণ্টার দরজা খোলার প্রথা এবং শ্রাবণের সোমাবারের এই অপূর্ব সমাপতন উজ্জ্বলের ধর্মীয় ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *