‘কংগ্রেস দেশে নৈরাজ্য চায়!’ বিস্ফোরক মন্তব্য করে কার বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হলেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা?

দেশের বর্তমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং উন্নয়নমূলক পরিস্থিতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না কংগ্রেস নেতৃত্ব—এমনই তীব্র আক্রমণ শানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর দাবি, সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে হতাশ হয়ে পড়া কংগ্রেস দল দেশে অশান্তি ও নৈরাজ্য ফিরিয়ে আনতে চাইছে, যাতে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ২০২৯ সালে ক্ষমতায় আসা যায়।

কংগ্রেস আমল ও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা
দিসপুরে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে কংগ্রেসের আমলে অসমসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসের কারণে মানুষ শান্তিতে স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের কথা ভাবতে পারত না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আজ দেশ এক শান্তিপূর্ণ ও বিকশিত ভারতের পথে এগিয়ে চলেছে, যা কংগ্রেস নেতৃত্ব হজম করতে পারছে না।

পি চিদম্বরমকে নিয়ে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ
কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমকে তীব্র আক্রমণ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, তিনি কেবল ‘দিমাগি ন্যাক্সাল’ নন, তিনি একজন ‘বিশুদ্ধ ন্যাক্সাল’। প্রসঙ্গত, গত ১৫ আগস্ট লাল কেল্লার প্রাকার থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নাম না করে মাওবাদী মানসিকতার মানুষদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছিলেন এবং তাঁদের ‘দিমাগি ন্যাক্সাল’ বলে অভিহিত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, অতীতে সরকারের বিভিন্ন নীতিনির্ধারক পদে এই মানসিকতার মানুষেরা ঘাপটি মেরে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পালটা দিয়ে গত ১৬ আগস্ট সামাজিক মাধ্যমে পি চিদম্বরম খোঁচা দিয়ে লিখেছিলেন, “আমি একজন ‘দিমাগি ন্যাক্সাল’ হতে পেরে গর্বিত!” আর ঠিক তার পরেই চিদম্বরমের সেই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী দাবি তোলেন যে, অতীতে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন পি চিদম্বরম জেনেশুনেই মাওবাদ দমনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেননি কি না, তা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর মন্তব্য এবং তার প্রেক্ষিতে বিরোধী নেতাদের পালটা বয়ান ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে বর্তমানে উত্তেজনার পারদ চড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *