বিজেপি ছাড়লেন জনপ্রিয় জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা, পদত্যাগপত্রে কিসের ইঙ্গিত দিলেন ক্ষুব্ধ নেতা?

অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটল। ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) জাতীয় মুখপাত্রের পদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিলেন শেহজাদ পুনাওয়ালা। ভারতীয় টেলিভিশন নিউজ চ্যানেলে যিনি দীর্ঘদিন ধরে পদ্ম শিবিরের অন্যতম জোরালো কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাঁর এই হঠাৎ দলত্যাগের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
পদত্যাগপত্রে কী লিখেছেন শেহজাদ?
৩৮ বছর বয়সি এই রাজনৈতিক নেতা এর আগে গত ৩০ জুলাই প্রথম পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে সেই সময় বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীনকে পাঠানো এক চিঠিতে পুনাওয়ালা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর তিনি তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।
কারও নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও চিঠিতে তিনি এক বিস্ফোরক ইঙ্গিত দিয়ে লিখেছেন, “গত কয়েক দিনের কিছু ঘটনা এবং কয়েকজন ব্যক্তির আচরণ, সে বিষয়ে আপনাকে আগেই বিস্তারিত জানিয়েছি, যা আমাকে আমার আগের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে বাধ্য করেছে।”
তবে দলীয় নেতৃত্ব তাঁর প্রথম পদত্যাগপত্র গ্রহণে বিরত থাকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, দলীয় সভাপতি নীতিন নবীন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি. এল. সন্তোষের মতো শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করেছেন। গত পাঁচ বছরে দল যে রাজনৈতিক মঞ্চ ও সুযোগ দিয়েছে, তার জন্যও তিনি কৃতজ্ঞ।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও বায়ো বদলের রহস্য
নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে শেহজাদ পুনাওয়ালা জানান, জরুরি আর্থিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে তিনি এবার কর্পোরেট ক্ষেত্রে বা বেসরকারি সংস্থায় যুক্ত হতে চলেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত বা আদর্শগত জায়গা থেকে তিনি সরে আসছেন না। তাঁর বক্তব্য, তিনি কেবল দলীয় ব্যবস্থা বা ‘ব্যবস্থা’ ত্যাগ করছেন, কিন্তু আদর্শ বা ব্যক্তির প্রতি সমর্থন অটুট রাখছেন। তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টিভঙ্গি এবং কাজকে সমর্থন করে যাবেন।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসের শেষ থেকেই তাঁর দলবদল নিয়ে জল্পনা দানা বাঁধতে শুরু করেছিল, যখন তিনি তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (X) হ্যান্ডেলের বায়ো পরিবর্তন করে ‘বিজেপি জাতীয় মুখপাত্র’ পরিচয়টি সরিয়ে নেন। তবে সেখানে তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আজীবন অনুগামী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
পেশায় আইনজীবী শেহজাদ পুনাওয়ালা একসময় কংগ্রেসের মাধ্যমেই তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মুখ খুলে তিনি সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছিলেন। এরপর কংগ্রেস ত্যাগ করে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং দলের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। এখন দেখার বিষয়, রাজনীতি ছেড়ে কর্পোরেট জগতে পা রাখার পর তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক অধ্যায় কোন দিকে মোড় নেয়।