ভাঙা জানালায় মন্ত্রীর ছবি, বসার বেঞ্চ নেই! স্বাধীনতা দিবসের দিনে স্কুলের বেহাল দশা দেখে কী বললেন সিজেপি আহ্বায়ক?

স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তি এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আনন্দের মধ্যেই দেশের সরকারি স্কুলগুলির বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। স্বাধীনতা দিবসের দিন মহারাষ্ট্রের একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শনের পর সেখানকার নজিরবিহীন পরিকাঠামোগত ঘাটতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অব্যবস্থা নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন তিনি।

শৌচাগারে জল নেই, ভাঙা জানালায় মন্ত্রীর ছবি!

শনিবার স্বাধীনতা দিবসের পতাকা উত্তোলনে অংশ নেওয়ার পর নিজের গ্রাম সন্তুক পিম্পরির একটি জেলা পরিষদ পরিচালিত স্কুলে পরিদর্শনে যান CJP আহ্বায়ক। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, স্কুলের শৌচাগার থাকলেও তাতে কোনো জল সরবরাহ নেই। ছাত্রছাত্রীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত বেঞ্চ নেই এবং স্কুলের জানলার একাধিক অংশ ভাঙা। এমনকি ভাঙা জানালা ঢাকতে যে ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের ছবি রয়েছে বলে দাবি করে একে বর্তমান ব্যবস্থার এক তীব্র ব্যঙ্গচিত্র বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, স্বাধীনতা অর্জনের এত বছর পরেও যদি শিক্ষার্থীরা পানীয় জলের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়, তবে দেশের প্রকৃত উন্নতি কোথায়?

‘স্কুল ঠিক করো’ আন্দোলন ও চেকলিস্ট

সরকারি স্কুলের এই বাস্তব চিত্র সর্বসমক্ষে আনতে এবার একটি বিশেষ ‘চেকলিস্ট’ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে CJP। এই তালিকার মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুলের পানীয় জল, শৌচাগার, বেঞ্চ এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর সঠিক হিসাব সংগ্রহ করা হবে। প্রথমে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জেলা এবং পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য প্রান্তের সরকারি স্কুলগুলির পরিস্থিতি এই চেকলিস্টের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানানো হয়েছে। দীপকের অভিযোগ, গত এক দশকে দেশে প্রায় ৯৪ হাজারেরও বেশি সরকারি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এর নেপথ্যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করছে।

বেসরকারি স্কুলের ফি ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও তোপ

চড়া ফি নিয়ে বেসরকারি স্কুলগুলির বিরুদ্ধেও সরাসরি আক্রমণ শেরেছেন অভিজিৎ দীপকে। সাধারণ ও গরিব পরিবারের পক্ষে বছরে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা স্কুল ফি দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে দাবি করে তিনি বেসরকারি স্কুলের ফি নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলেছেন। তাঁর মতে, সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল রাখার ফলেই বাধ্য হয়ে অভিভাবকদের বাড়তি খরচ করে বেসরকারি স্কুলের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশাই নয়, আগামী দিনে সরকারি হাসপাতালগুলির চিকিৎসাসেবা এবং পরিকাঠামো নিয়ে অনুরূপ বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন CJP আহ্বায়ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *