এক চার্জেই ৬২৪ কিমি পথ! ২৬ লক্ষের টাটা সিয়েরা ইভি বাজারে আসতেই কেন হইচই?

টাটা মোটরসের অন্যতম আইকনিক ও আলোচিত গাড়ি ‘সিয়েরা’। সেই নস্ট্যালজিয়াকে সঙ্গে নিয়েই এবার বাজারে হাজির হয়েছে সংস্থার নতুন ইলেকট্রিক অবতার—Tata Sierra EV। সিয়েরার নাম এবং আধুনিক ইলেকট্রিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এই গাড়িটিকে ঘিরে অটোমোবাইল বাজারে ইতিমধ্যেই চরম উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এর অল হুইল ড্রাইভ প্রযুক্তি গাড়িপ্রেমীদের নজর কেড়েছে সবথেকে বেশি।
দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও শক্তিশালী ব্যাটারি
এই গাড়ির টপ মডেল অর্থাৎ কোয়াড হুইল ড্রাইভ (QWD) ভ্যারিয়েন্টে দেওয়া হয়েছে দুটি শক্তিশালী ইলেকট্রিক মোটর। এই মোটরগুলি একসঙ্গে ৩১৩ হর্স পাওয়ার শক্তি এবং ৫০০ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। গাড়িটিতে রয়েছে ৭৫ কিলোওয়াট আওয়ারের একটি শক্তিশালী ব্যাটারি প্যাক। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে এই গাড়ি ৬২৪ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারবে। তবে বাস্তব রাস্তায় গাড়িটি অনায়াসে ৪৫০ থেকে ৫০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গাড়িটির পারফরম্যান্স সম্পর্কে বলতে গেলে, এতে দুটি মোটর থাকলেও এর পাওয়ার ডেলিভারি অত্যন্ত মসৃণ, ব্যালেন্সড ও লিনিয়ার। সিটি মোডে গাড়ি যেমন সাবলীল, তেমনই স্পোর্টস মোডে এর পারফরম্যান্স রীতিমতো দুর্দান্ত। মাত্র ৫.৮ সেকেন্ডের মধ্যেই এটি ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার গতি তুলতে পারে। এছাড়া বুস্ট মোড চালু করলে এর কার্যক্ষমতা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
আরামদায়ক সফর ও অফ-রোড ক্ষমতা
শুধু গতির দিক থেকেই নয়, দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সিয়েরা ইভি যথেষ্ট আরামদায়ক। এর হালকা স্টিয়ারিং, চমৎকার দৃশ্যমানতা এবং উন্নত রাইড কোয়ালিটি শহরের ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি চালানো অত্যন্ত সহজ করে তোলে। এমনকি পেট্রল-ডিজেল সংস্করণের (ICE) তুলনায় এর ইলেকট্রিক মডেলের রাইড অনেক বেশি পরিণত ও স্থিতিশীল। ২০৫ মিলিমিটার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স থাকার কারণে যেকোনো কঠিন অফ-রোড বা খারাপ রাস্তাতেও এটি দারুণ পারফর্ম করতে পারে।
আধুনিক ফিচারের দীর্ঘ তালিকা
ফিচারের দিক থেকেও এই গাড়িটি এককথায় সমৃদ্ধ। কেবিনের ভেতরে রয়েছে তিনটি বড় স্ক্রিন, হেড-আপ ডিসপ্লে (HUD), উন্নত মানের অডিও সিস্টেম, গেমিং সুবিধা, বিশাল প্যানোরামিক সানরুফ এবং ডুয়াল পাওয়ারড সিট। এর পাশাপাশি ডলবি অ্যাটমস (Dolby Atmos), রিয়ার সানব্লাইন্ড এবং পাওয়ারড টেলগেটের মতো আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। QWD ভ্যারিয়েন্টে ভিটুভি (V2V), ভিটুএল (V2L), ৫৪০-ডিগ্রি ক্যামেরা, অটো পার্ক এবং স্যামন মোডের মতো তাক লাগানো প্রযুক্তি রাখা হয়েছে।
দাম ও বাজার প্রতিদ্বন্দ্বিতা
সব মিলিয়ে এই গাড়ির আনুমানিক দাম প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা রাখা হয়েছে, যা সরাসরি সংস্থারই অন্য জনপ্রিয় মডেল হ্যারিয়ার ইভির (Harrier EV) কাছাকাছি চলে আসে। দাম কিছুটা বেশি মনে হলেও পারফরম্যান্স, দীর্ঘ রেঞ্জ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং অফ-রোড সক্ষমতার দিক থেকে এটি বর্তমানে টাটার অন্যতম সেরা এবং শক্তিশালী ইলেকট্রিক এসইউভি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।