মহাকাশে রহস্যময় অসুস্থতা! ৩৩০ দিন অভিযানের পর কেন হঠাত্ NASA ছাড়লেন কিংবদন্তি মাইক ফিনকে?

মহাকাশ গবেষণার জগতে এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান ঘটল। দীর্ঘ ৩০ বছরের কর্মজীবন শেষে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA থেকে অবসর গ্রহণ করলেন প্রবীণ মহাকাশচারী মাইক ফিনকে। ৫৯ বছর বয়সি এই মহাকাশচারী তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কম্যান্ডার, মিশন স্পেশ্যালিস্ট এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
মহাকাশে ৫৪৯ দিন ও এক রহস্যময় সংকট
আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের (ISS) ইতিহাসে মাইক ফিনকের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মহাকাশে মোট ৫৪৯ দিন কাটিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় অবস্থানকারী মহাকাশচারীদের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে গত বছরের শুরুর দিকে।
২০২৫ সালের অগাস্টে SpaceX Dragon মহাকাশযানে চেপে Crew-11 অভিযানের অংশ হিসেবে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রত্যাবর্তনের কথা থাকলেও, এক মাসের আগেই তাঁকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে হয়। রহস্যময় এই ঘটনার সময় মাইক রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। হঠাৎই তিনি কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। প্রায় ২০ মিনিট তিনি বাকরুদ্ধ ছিলেন। NASA বা খোদ মাইক—কেউই আজ পর্যন্ত সেই ঘটনার প্রকৃত কারণ খোলসা করেননি। তবে এটি স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক ছিল না, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের ইতিহাসে অসুস্থতার কারণে কোনো মহাকাশচারীকে মাঝপথে ফিরিয়ে আনার ঘটনা সেটিই ছিল প্রথম।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মাইক
মাইক ফিনকে শুধুমাত্র একজন দক্ষ মহাকাশচারীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একাধারে তুখোড় প্রকৌশলী এবং আমেরিকার অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা কর্নেল। ৩০ ধরনের যুদ্ধবিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। এমআইটি (MIT), স্ট্যানফোর্ড এবং ইউনিভার্সিটি অফ হিউস্টন থেকে পড়াশোনা শেষ করা মাইক যেকোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। স্পেস স্টেশনের জল শোধনকারী যন্ত্র (যা ঘাম ও মূত্রকে পানীয় জলে পরিণত করত) খারাপ হয়ে গেলে, তিনি নিজ হাতে তা মেরামত করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।
বিদায়লগ্নে স্মৃতিচারণ
অবসরের ঘোষণার পর NASA-র প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান মাইকের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “NASA-র ইতিহাসে মাইকের মতো এত নতুন অধ্যায় রচনার সুযোগ খুব কম মানুষেরই হয়েছে।”
বিদায়বার্তায় মাইক ফিনকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “NASA আমাকে অসাধারণ মানুষজনের সঙ্গে কাজ করার অভূতপূর্ব সুযোগ দিয়েছে। উড়তে শিখিয়েছে, মহাকাশযান তৈরি করতে শিখিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে অবদান রাখার গৌরব অর্জন করতে সাহায্য করেছে।” ৩০ বছরের সেই কর্মময় অধ্যায়ের ইতি টেনে এখন নতুন জীবনের অপেক্ষায় এই অকুতোভয় মহাকাশচারী।