সরাসরি যুদ্ধে নয়, অন্য ফাঁদ পেতেছেন পুতিন! ইউরোপকে অস্থিতিশীল করতে রাশিয়ার আসল লক্ষ্য কী?

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (EU) ভেতর থেকে দুর্বল ও বিভক্ত করার জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক গোপন কৌশল অবলম্বন করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা নীতি ও সংহতি পরীক্ষা করার জন্য মলদোভাকে অস্থিতিশীল করার বিশাল পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে মস্কো।

৩টি প্রধান বিষয়:

  • গোপন কৌশল: রাশিয়া ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ভেতর থেকে দুর্বল করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

  • মলদোভা সংকট: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মলদোভাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করে ন্যাটোর সংহতির পরীক্ষা নিতে পারে রুশ বাহিনী।

  • হাইব্রিড হামলা: সাইবার আক্রমণ, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় ড্রোন হামলা এবং ছদ্মবেশী অনুপ্রবেশের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

পুতিনের দ্বিমুখী পরিকল্পনা ও মলদোভার গুরুত্ব মার্কিন ও পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ক্রেমলিনের এই কৌশল মূলত দ্বিমুখী। প্রথমত, ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির দৃঢ়তা পরীক্ষা করা এবং দ্বিতীয়ত, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল মলদোভাকে অস্থিতিশীল করে তোলা। ২৪ লক্ষ জনসংখ্যার দেশ মলদোভা ইউক্রেন এবং ন্যাটো সদস্য রোমানিয়ার ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। ইউক্রেন দখলের পর মলদোভার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা মস্কোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে, মলদোভার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল ট্রান্সনিস্ত্রিয়ায় রুশ সেনার দীর্ঘদিনের উপস্থিতি কিশিনেভের ওপর ক্রেমলিনের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইউরোপে হাইব্রিড যুদ্ধের আশঙ্কা বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া সরাসরি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে না জড়িয়ে হাইব্রিড যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও উচ্চ-ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনে রুশ ড্রোন ও মিসাইল হামলার ফলে মলদোভার বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পোল্যান্ড এবং বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো—লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া ইতিমধ্যেই তাদের গ্যাস নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বাঁধের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকাঠামোগুলোর নিরাপত্তা চরম পর্যায়ে উন্নীত করেছে। গোয়েন্দা মহলের আশঙ্কা, এই ধরনের সুপরিকল্পিত হামলার মূল উদ্দেশ্য কেবল অবকাঠামো ধ্বংস করা নয়, বরং ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতভেদ ও বিভ্রান্তি তৈরি করা, যাতে সম্মিলিত জবাব দেওয়া নিয়ে ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় রাজধানীগুলির মধ্যে দীর্ঘ বিতর্ক ও দূরত্ব তৈরি হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *