মাসে মাত্র ১০০ টাকা জমিয়েই লাখপতি! পোস্ট অফিসের এই দারুণ স্কিমের সমস্ত নিয়ম জেনে নিন

ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট বা রেকারিং ডিপোজিটের সুদের হারে সন্তুষ্ট নন অনেকেই। নিরাপদ বিনিয়োগ এবং নিশ্চিত রিটার্নের কথা মাথায় রেখেই বহু মানুষ এখনও ভরসা রাখেন পোস্ট অফিসের বিভিন্ন স্কিমের ওপর। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য একাধিক ছোট সঞ্চয় প্রকল্প পরিচালনা করে আসছে ভারতীয় ডাক বিভাগ, যেখানে ঝুঁকির পরিমাণ একেবারেই নেই বললেই চলে। ব্যাঙ্কের মতো বাজারের অস্থিরতার মুখোমুখি হতে হয় না এখানে।
পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট
ব্যাঙ্কের রেকারিং ডিপোজিটের তুলনায় পোস্ট অফিসের আরডি বেশ কিছুটা আলাদা। ব্যাঙ্কে অনেক সময় অ্যাকাউন্টহোল্ডাররা প্রয়োজনমতো সহজে টাকা তুলে নিতে পারেন। কিন্তু পোস্ট অফিসে অ্যাকাউন্ট খোলার অন্তত তিন বছর পূর্ণ না হলে আরডি ভাঙার নিয়ম নেই।
এই স্কিমে বর্তমানে ৬.৭ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে। গ্রাহক চাইলে প্রতি মাসে মাত্র ১০০ টাকা থেকে শুরু করে এই সঞ্চয় শুরু করতে পারেন। এই স্কিমের মূল মেয়াদ ৫ বছর ধার্য করা হয়েছে। তবে বিনিয়োগকারী চাইলে নিয়মমাফিক এর মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়িয়ে নিতে পারেন। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে টাকা তুলে নিলে সুদের পরিমাণে প্রভাব পড়তে পারে।
পোস্ট অফিস টার্ম ডিপোজিট স্কিম
শেয়ার বাজারের ঝুঁকি এড়িয়ে যারা এককালীন টাকা জমাতে চান, তাদের জন্য অন্যতম বিকল্প হতে পারে পোস্ট অফিস টার্ম ডিপোজিট স্কিম। ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের সঙ্গেই এর কার্যকারিতা অনেকটাই মেলে। এখানে এক থেকে পাঁচ বছরের মেয়াদের জন্য টাকা বিনিয়োগ করা যায়।
এই স্কিমের বিশেষত্ব হলো, মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে সুদের হার পরিবর্তিত হয়। এক বছর, তিন বছর কিংবা পাঁচ বছরের টার্ম ডিপোজিটের ক্ষেত্রে সুদের হারে তফাত দেখা যায়।
৫ লক্ষ টাকার বিনিয়োগে সুদের হিসেব
পাঁচ লক্ষ টাকার একটি নির্দিষ্ট জমার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মেয়াদে কেমন রিটার্ন পাওয়া যেতে পারে, তার একটি প্রাথমিক হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
-
১ বছরের টার্ম ডিপোজিট: এই মেয়াদে পাঁচ লক্ষ টাকা রাখলে প্রায় ৩৩,৩০১ টাকা সুদ পাওয়া যায়। মেয়াদ শেষে মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৫,৩৩,৩০১ টাকা।
-
৩ বছরের টার্ম ডিপোজিট: তিন বছরের মেয়াদে পাঁচ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রায় ১,১৭,৫৮৩৮ টাকা সুদ মেলে। সব মিলিয়ে মেয়াদ শেষে হাতে আসে ৬,১৭,৫৩৮ টাকা।
-
৫ বছরের টার্ম ডিপোজিট: পাঁচ বছরের দীর্ঘ মেয়াদে পাঁচ লক্ষ টাকা রাখলে প্রায় ২,২৪,৯৭৪ টাকা সুদ পাওয়া সম্ভব। এতে মেয়াদ শেষে মোট টাকার পরিমাণ হয় ৭,২৪,৯৭৪ টাকা।