জিলিপি আসলে ভারতীয় নয়! মুচমুচে এই মিষ্টির আসল উৎস জানলে অবাক হবেন, রয়েছে সুদূর অতীতের রহস্য

গরম জিলিপির মুচমুচে স্বাদ আর দীর্ঘ ইতিহাস: কীভাবে ভারত জয় করল এই বিদেশি মিষ্টি?

সারা দেশের মতো বাঙালির বিকেলের আড্ডায় গরম, মুচমুচে জিলিপি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই জিভে জল আনা মিষ্টির প্যাঁচালো রূপের পেছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ যাত্রার গল্প। জিলিপিকে আমরা আজ ভারতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে মনে করলেও, এর উৎস কিন্তু এই উপমহাদেশের বাইরের।

আরব থেকে যাত্রা শুরু

ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, বর্তমান জিলিপির আদিরূপের দেখা মিলত পশ্চিম এশিয়ায়। সেখানে ‘জালাবিয়া’ বা ‘জুলাবিয়া’ নামে একই ধরনের এক ভাজা মিষ্টির ব্যাপক প্রচলন ছিল। খাদ্য ইতিহাসবিদদের মতে, এই মিষ্টির প্রাচীনতম লিখিত উল্লেখ পাওয়া যায় দশম শতাব্দীর আরবি রান্নার বই ‘কিতাব আল-তাবিখন’-এ, যা সংকলন করেছিলেন ইবন সায়্যার আল-ওয়ারাখ। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুহাম্মদ বিন হাসান আল-বাগদাদির লেখা বইতেও ‘জালাবিয়া’-র বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়।

মিষ্টির বিবর্তন ও অভিযোজন

তবে এর মানে এই নয় যে, আজকের জিলিপি সরাসরি কোনো বিদেশি দেশ থেকে ভারতে আমদানি করা হয়েছে। এটি মূলত একটি অভিযোজনের গল্প। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশীয় উপকরণ এবং স্বাদের মিশেলে ‘জালাবিয়া’ নিজেকে বদলে নিয়েছে ভারতীয় বা বাঙালি জিলিপিতে। ইন্দোরের অতিকায় ‘জিলেবা’ থেকে শুরু করে বাংলার পাতলা মুচমুচে জিলিপি— প্রতিটি রূপই আজ এক অনন্য আঞ্চলিক সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।

আজকের দিনে জিলিপি কেবল একটি মিষ্টি নয়, বরং তা এক দীর্ঘ সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং ইতিহাসের সাক্ষী। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রূপ ও স্বাদে টিকে থাকা এই মিষ্টি প্রমাণ করে, খাবারের কোনো সীমান্ত থাকে না, কেবল প্রয়োজন এক অনন্য অভিযোজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *